প্রচ্ছদ আজকের সেরা সংবাদ দীপুর মাথায় ব্লক পড়ল কোথা থেকে, ‘রহস্য’ ভেদ করতে পারছে না পুলিশ

দীপুর মাথায় ব্লক পড়ল কোথা থেকে, ‘রহস্য’ ভেদ করতে পারছে না পুলিশ

রাজধানীর মৌচাক মার্কেট এলাকায় মাথায় কংক্রিটের ব্লক পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা দীপান্বিতা বিশ্বাস দীপুর মৃত্যুর ঘটনায় কাউকে আটক বা শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি এখন পর্যন্ত তারা দীপুর মাথায় পড়া ব্লকের রহস্যই উন্মোচন করতে পারেনি। আবাসিক ভবন থেকে নাকি ফ্লাইওভার থেকে ব্লকটি পড়েছে তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথমে গণমাধ্যমের খবর ছিল— নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে মারা যান বাংলাদেশ ব্যাংকের নারী কর্মকর্তা। কিন্তু ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে দেখা যায়, আশপাশে কোনো নির্মাণাধীন ভবন নেই।

ঘটনাস্থলকে কাভার করে কাছে ও দূরে স্থাপিত এমন অন্তত ২০টি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর পুলিশের সন্দেহ, ব্লক পড়েছে ফ্লাইওভার থেকে। তবে সেটি কোনোভাবে পড়ে গেছে নাকি কেউ ছুঁড়ে মেরেছে, তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

গত ১০ জানুয়ারি রাতে মৌচাক মার্কেট এলাকার ফখরুদ্দীন কমিউনিটি সেন্টারের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় ওপর থেকে একটি কংক্রিটের ব্লক পড়ে ঘটনাস্থলেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা দীপান্বিতার মৃত্যু হয়। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট অফিসে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায়। তিন বছরের একটি সন্তান রয়েছে দীপান্বিতার।

ঘটনার পরদিন ১১ জানুয়ারি দুপুরে নিহতের স্বামী তরুণ কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের সংগৃহীত একটি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাবলীলভাবে হেঁটে যাচ্ছিলেন দীপান্বিতা বিশ্বাস। মৌচাক ফখরুদ্দীন কমিউনিটি সেন্টারের নিচে হঠাৎ করে ব্লক পড়ে তার মাথার ওপর। সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন দীপান্বিতা। তখন ছুটে আসতে দেখা যায় আশপাশের মানুষকে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, তখন রাত ৭টা ২৯ মিনিট।

মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো নির্মাণাধীন ভবন নেই। থাকলে একটা শক্ত ধারণা করা যেত। তাছাড়া ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকার অনেকগুলো সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছি। কিন্তু স্পেসিফিক কোনো ফুটেজ মেলেনি, যেটা ধরে কোনো ফ্ল্যাট, পার্টি সেন্টার, ফ্লোর বা কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যাবে।

তিনি বলেন, ব্লকটি ওপর থেকে পড়েছে ফুটেজে সেটি স্পষ্ট। কিন্তু কোত্থেকে কীভাবে ভুক্তভোগীর মাথায় এসে পড়ল, সেটি স্পষ্ট নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে সেই তথ্য বা ফুটেজই খোঁজা হচ্ছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোফাজ্জল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশ এবং ঘটনাস্থলের সকল সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পর এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে, ফখরুদ্দীন কমিউনিটি সেন্টারের ভবন বা অন্য ভবন থেকে নয়, ফ্লাইওভারের ওপর থেকে পড়তে পারে ব্লক। কিন্তু সেটিরও সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই।

তিনি বলেন, আশপাশে নির্মাণাধীন ভবন থাকলে একটা স্টেপ নিয়ে সন্দেহভাজন কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেত। কিন্তু সেই রকম কোনো ভবনই নেই। যে কারণে কাউকে আটক বা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা ফ্লাইওভারের ওপরে ও নিচে লাগানো সিসিটিভির আরও ফুটেজ সংগ্রহ ও অধিকতর বিশ্লেষণ করছি। আমরা আশা করি, দ্রুতই তদন্ত কাজ শেষ হবে।

নিহতের স্বামী ও মামলার বাদী তরুণ বিশ্বাস ঢাকা পোস্টকে বলেন, স্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে অন্ধকার নেমে এসেছে। এখন পর্যন্ত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কাজই শেষ করতে পারিনি। মামলা করেছি বিচারের জন্য, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য। আমি চাই, পুলিশ সঠিক তদন্ত করে ঘটনার সঠিক রহস্য উদঘাটন করুক। আমি বিশ্বাস করতে চাই, পুলিশ সেই চেষ্টাই করছে।