প্রচ্ছদ জাতীয় চার ভাগে বিভক্ত হচ্ছে সেন্টমার্টিন

চার ভাগে বিভক্ত হচ্ছে সেন্টমার্টিন

দশকের পর দশক অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে সেন্টমার্টিনের প্রায় ৭০ শতাংশ প্রবাল ধ্বংস হয়ে গেছে। এই অস্তিত্ব সংকট মোকাবিলায় সরকার এখন দ্বীপটির সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

খসড়া মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বীপের ব্যবহারিক গুরুত্ব ও জীববৈচিত্র্য বিবেচনায় সেন্টমার্টিনকে নিচের চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

জেনারেল ইউজ জোন (General Use Zone): এই এলাকায় সাধারণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও পর্যটন চলবে। বর্তমানের সব হোটেল ও রিসোর্টকে এই জোনের আওতায় আনা হবে।

Zone): এটি মূলত কচ্ছপের প্রজনন এলাকা। পর্যটকরা এখানে শুধু দিনে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন, তবে রাতে থাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। স্থানীয়রাও এখান থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ সংগ্রহ করতে পারবেন না।

সাসটেইনেবল ইউজ জোন (Sustainable Use Zone): এই এলাকায় বুশল্যান্ড ও ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে। এখানেও পর্যটকদের রাতযাপন নিষিদ্ধ। স্থানীয়রা সীমিত পরিসরে এবং সরকারি নিয়ম মেনে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করতে পারবেন।

রেস্ট্রিক্টেড জোন (Restricted Zone): এই এলাকাটি পুরোপুরি সংরক্ষিত। জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে এখানে কোনো ধরনের মানুষের প্রবেশাধিকার থাকবে না।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেন্টমার্টিন ও পর্যটন সমার্থক হতে পারে না। এই দ্বীপের প্রথম অগ্রাধিকার হতে হবে সংরক্ষণ। ৮ হাজার মানুষের দ্বীপে প্রতিদিন ১০ হাজার পর্যটক গেলে সেটি পরিবেশের ওপর চরম আঘাত। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটন নিষিদ্ধ থাকায় দ্বীপের প্রকৃতি কিছুটা নিঃশ্বাস নিতে পেরেছে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

মহাপরিকল্পনায় সেন্টমার্টিনকে পরিবেশবান্ধব করতে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে:

বিদ্যুৎ: জেনারেটরের বদলে সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রস্তাব।
পানি: বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (Rainwater Harvesting) ব্যবস্থা করা।
কর্মসংস্থান: পর্যটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়দের জন্য কৃষি, হস্তশিল্প এবং মৎস্য খাতে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ রেজা খান জানান, ১৯৮০ সালের তুলনায় বর্তমানে সেন্টমার্টিনের চিত্র ভয়াবহ। দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বের অংশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে এবং অধিকাংশ প্রবাল নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান দ্বীপের সুরক্ষায় প্রকৃতিবান্ধব স্থাপনা নির্মাণের ওপর জোর দেন।

সেন্টমার্টিনের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।