
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে প্রকাশিত নতুন ৩০ লাখের বেশি নথিতে উঠে এসেছে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম। এসব নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামের পাশাপাশি বাংলাদেশের পলাতক ও দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংশ্লিষ্টতার কথাও সামনে এসেছে।
নথিতে সরাসরি শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ না থাকলেও ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে তার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। এতে জানা যায়, এপস্টেইনের টিমের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ ছিল।
প্রকাশিত একটি ইমেইলে দেখা যায়, এপস্টেইনের সঙ্গে প্রায় ২০ বছর ধরে কাজ করা তার নারী সহকারী লেসলি গ্রোফ জানান, কোনো একটি অজানা বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের টিমের সমঝোতা হয়েছে। তবে ওই বিষয়টি কী ছিল, তা ইমেইলে উল্লেখ করা হয়নি।
ইমেইলটি পাঠানো হয় ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে। এর বিষয়বস্তু ছিল ‘জেফরি এপস্টেইন’।
এ ছাড়া নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামও উঠে এসেছে। এপস্টেইনের একটি ইমেইলে দাবি করা হয়, মোদি তার পরামর্শ নিতেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে ইসরায়েলে গিয়ে নাচ-গান করেন। এপস্টেইনের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ইতিবাচক ফলও পাওয়া যায়।
২০১৭ সালে নরেন্দ্র মোদি সত্যিই ইসরায়েল সফর করেন, যা ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। এর কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি ওয়াশিংটনে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
নথিতে ভারতীয় শিল্পপতি অনিল আম্বানির নামও উল্লেখ রয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে আম্বানি এপস্টেইনের সহায়তা চেয়েছিলেন।
জেফরি এপস্টেইন ছিলেন নিউইয়র্কভিত্তিক একজন ধনী আর্থিক বিনিয়োগকারী। তার বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌন নির্যাতন, মানব পাচার ও যৌন নিপীড়নের একাধিক অভিযোগ ছিল।
২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর দায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তবে বিতর্কিত এক চুক্তির মাধ্যমে মাত্র ১৩ মাসের স্বল্প সাজা ভোগ করে মুক্তি পান। পরে জানা যায়, ওই চুক্তির ফলে তিনি আরও গুরুতর অভিযোগ থেকে রেহাই পান।
২০১৯ সালে নিউইয়র্কে আবারও তার বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌন পাচারের অভিযোগে বড় মামলা হয়। এফবিআই ও ফেডারেল কৌঁসুলিরা জানান, বহু বছর ধরে তিনি ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরীদের বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করতেন।
তদন্তে আরও উঠে আসে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘদিন নিজের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আড়াল করে রেখেছিলেন।
২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মেডিকেল রিপোর্টে এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও, নিরাপত্তা ত্রুটি, ক্যামেরা বিকল এবং দায়িত্বে অবহেলার মতো নানা কারণে তার মৃত্যু নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঘিষলেইন ম্যাক্সওয়েলকে ২০২০ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর তাকে নাবালিকাদের যৌন পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
সূত্র : জনকণ্ঠ










































