
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আপনি (আখতারুজ্জামান) সাহেব, এখন আর আপনি শুধু জামায়াতে ইসলামের নেতা নন। এখন আপনি সারা বাংলাদেশের ভুক্তভোগী, নির্যাতিত সমস্ত মানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন। রোববার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আখতারুজ্জামানের মতো একজন বিশিষ্ট নাগরিক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হাতে হাতকড়া পরানো হয়েছে তাকে অপমান করার জন্য। মাথায় হেলমেট পরানো হয়েছে তাকে অপমান করার জন্য। তার বুকে জ্যাকেট বেঁধে দেয়া হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই, ধিক্কার জানাই।
মামলা হওয়ার পর আখতারুজ্জামানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার বিষয়টি উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, মামলা হওয়ার পরে আমি তাকে ফোন করেছিলাম, আমরা অ্যান্টিসিপেটরি বেল নেব কি না। তিনি অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি অন্যায় করিনি, কাজেই আমি আত্মসমর্পণ করব না।’
তিনি আরও বলেন, আখতারুজ্জামান বলেছিলেন, আমি চাই আমাকে গ্রেপ্তার করা হোক। আমি চাই, প্রতিবাদের কারণে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এটা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ দেখুক।
ডিবি সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করতে যাওয়ার পর হাতকড়া না পরানোয় আখতারুজ্জামান নিজেই হাতকড়া পরানোর অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ডিবি যখন গিয়েছে, প্রথমে তাকে হাতকড়া পরায়নি। তিনি বলেছেন, ‘ও ডিবি ভাই, আমাকে একটু হাতকড়া পরান। সালাহউদ্দিন সাহেবের ইচ্ছা ১৬ আনা পূরণ হবে।’ বীর যতদিন জীবিত থাকে, বীরই থাকে। ঠিক তিনি বীরত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন।
আখতারুজ্জামানের জন্য দোয়া করে জামায়াত আমীর বলেন, আমরা মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিন। মানুষ হিসেবে আমরা কেউ ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নই। আমাদের এবং উনারও কোনো ভুলত্রুটি থাকলে আল্লাহ তাও ক্ষমা করে দিন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি যে প্রবাসীদের পক্ষে কথা বলেছেন, তারাও (প্রবাসীরা) এটাকে হালকাভাবে নেবে না। সরকারকে সাবধান করে দিচ্ছি-পারেন না, মুরোদ নাই, একটা মেডিকেল সেন্টার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারেন না, সেখানে রাতের অন্ধকারে ভেঙে চুরমার করে দেয়া হলো, তার সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন করা হলো।
সরকারের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, একজনকে জনগণের চোখে ধুলা দেয়ার জন্য সংসদ সদস্য পদে পদত্যাগ করিয়েছেন, কিন্তু এই দুষ্কৃতিকারীকে এখনো দল থেকে বহিষ্কার করেননি, এখনো তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনেননি। আরও যারা দুষ্কৃতকারী, তাদেরকেও গ্রেপ্তার
তিনি বলেন, জনগণকে বোকা ভাববেন না, অন্ধ ভাববেন না। আপনাদেরও যদি প্রত্যেকের দুইটা করে চোখ থাকে, তাহলে জনগণেরও সূর্যের মতো দুইটা করে চোখ আছে। পরিষ্কার করে সবকিছু দেখে। আড়াল করতে পারবেন না। এখন আড়াল করার জামানা না। এখন মুহূর্তের মাঝে সবকিছু জনগণের দোরগোড়ায় হাতে হাতে পৌঁছে যায়।
এদিকে রোববার জামায়াত আমীর তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে বলেছেন, কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। পোস্টে তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ-ভোগান্তি, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অনিয়ম ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। কার্যত তিনি ভুক্তভোগী যাত্রী সাধারণ, বিশেষ করে বিদেশফেরত প্রবাসীদের প্রতিবাদের কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন।
তাঁর এই প্রতিবাদকে আমলে নিয়ে দুর্বলতাগুলো সংশোধন করার পরিবর্তে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকি দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে জনসম্মুখে অপমানিত করার নানা হীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জনগণ অন্ধ নয়, সবই দেখছে। কার্যত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তিনি বীরত্বের প্রমাণ দিয়েছেন এবং ভুক্তভোগী মানুষের হৃদয়ের বীরে পরিণত হয়েছেন।
আল্লাহ তায়ালা তাঁর সম্মান বৃদ্ধি করুন। আমীন।










































