সাকিবের অভাব নাই, স্বভাব নষ্ট হয়ে গেছে

দেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা সাকিব আল হাসানকে আবারও একহাত নিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

সম্প্রতি শেয়ারবাজারের আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরোর কারসাজি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে সাকিবের কোম্পানির নাম। সাতটি কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি করে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল টাকা তুলে নিয়েছে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, সাকিবের কোম্পানি মোনার্ক হোল্ডিংসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ আনা হয়েছে এবং জরিমানা করা হয়েছে।

সাকিব ওই কোম্পানির চেয়ারম্যান। তদন্ত প্রতিবেদনে ওয়ান ব্যাংকের শেয়ারের শীর্ষ ক্রেতাদের মধ্যে সাকিব আল হাসানের নামও আছে। তবে তিনি এ শেয়ার কিনেছেন অন্য একটি ব্রেকারেজ হাউস থেকে।

এই ইস্যুতে বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিওতে মুখ খুলেছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ভিডিওতে ‘সাকিবের অভাব নাই, স্বভাব নষ্ট হয়ে গেছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সুমন বলেন, ‘আপনারা জেনেছেন যে, আমাদের যিনি গর্ব, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান একটি জুয়া কম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। বিসিবির হস্তক্ষেপে পরে তিনি সেটা থেকে বের হয়ে এসেছেন। আমি উনাকে তিন লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলাম।

এবার আমরা জানলাম যে, কিছুদিন আগে যে শেয়ার কারসাজি হয়েছে সেটাতেও সাকিব জড়িত, তার নাম আছে এখানে। যারা এই কারসাজিটা করেছেন তারা গত কিছুদিনের মধ্যে শেয়ারবাজার থেকে ১৩৭ কোটি টাকা সরিয়ে ফেলেছেন। এখান থেকে লাভ হয়েছে তাদের। আমার বক্তব্য হচ্ছে, সাকিব আল হাসানের দেড় কোটি ফলোয়ার, এই ফলোয়ারদের জন্য তিনি মডেল।

এখন সাকিবের কাছ থেকে তারা কী শিখবে?’ব্যারিস্টার সুমন আরো বলেন, ‘আরেকটা মজার কথা শোনেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন মানে যারা শেয়ার মার্কেটটাকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাদেরই শুভেচ্ছ দূত হচ্ছেন সাকিব আল হাসান। দুদকেরও নাকি শুভেচ্ছা দূত ছিলেন সাকিব। এখন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং দুদকের শুভেচ্ছা দূতেরই যদি অবস্থা এমন হয়, তাহলে এর পরিণত কোথায় দাঁড়ায়!

টাকা ছাড়া, লুটপাট ছাড়া, জুয়া ছাড়া এই মানুষটা কিছুই বোঝে না। ’ক্রিকেটে সাকিবের অবদানের কথা অস্বীকার করছেন না সুমন, ‘ক্রিকেটে বিভিন্ন সময় সাকিব আল হাসান বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে গেছেন। আমরা তার জন্য গর্ববোধ করি। আমরা অনেকেই তার ফলোয়ার, আমাদের পছন্দের ক্রিকেটার হচ্ছেন সাকিব আল হাসান। তার জন্য যে কৃতজ্ঞতা আমরা পরিশোধ করছি, এর বিনিময়ে আমরা কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি নেব? উনি যা ইচ্ছা তা-ই করতেছেন।

স্বর্ণের ব্যবসা করতেছেন, শেয়ার কারসাজিতে জড়িত আছেন। এমন কিছু বাদ নাই উনি করতেছেন না। এটা আমাদের জন্য খুবই হতাশাজনক। ’দুদকের কাছে প্রশ্ন রেখে সুমন বলেন, ‘দুদকের শুভেচ্ছ দূত এখনো যদি থেকে থাকেন, তাকে বিদায় দেবেন কি না এবং তার বিরুদ্ধে যে শেয়ার কারসাজির বিষয় এটা দেখবেন কি না সেটা দুদকের কাছে আমার প্রশ্ন। ’সবশেষ সুমন বলেন, তার নাকি বছরে অনেক কোটি টাকার ইনকাম। ৬-৭০০ কোটি টাকার মালিক নাকি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছেন। এরপরেও শেয়ার কারসাজির সঙ্গে জড়িত, তাই আমার কাছে মনে হয়েছে, এই মানুষটার (সাকিব) অভাব নাই, স্বভাব নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আমাদের এখনই তাকে রক্ষা করতে হবে। নয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.