Breaking News

শ্বশুর বাড়ির ইফতারিকে না বলি- আমাদের সচেতনতাই পারে জুলুম থেকে রক্ষা করতে

আমরা চাইলে সমাজকে বদলাতে পারি, বদলাতে পারি ঘুনেধরা সমাজের জুলুমের রিতি- সামাজিক সচেতনতার জন্য দরকার নিজে সচেতন হওয়া অন্যদের সচেতন করা- আমরা চাইলে বাচিয়ে দিতে পারি অনেক অসহায় মেয়ের স্বপ্নের ঘরকে বাবা মায়ের মুখে ফুটতে পারে হাসি। আসার কথা গত কয়েক বছর ধরে যুবসমাজের কারনে এই প্রথা কিছুটা হলেও কমতে শুরু করেছে- শ্বশুর বাড়ির ইফতারিকে না বলি- আজ শুরু করব কিছু বাস্তব চিত্র দিয়ে- ঘটনা ২০১৯ শামীম আহমদের সঙ্গে হেলেনা বেগমের (২০) বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম রমজান মাস

এবার সিলেটের ঐতিহ্য হিসেবে (১০ মে) হেলেনার বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে ইফতার পাঠানো হয়। কিন্তু সেই ইফতার সামগ্রী শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মনমতো হয়নি। আর সেটা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের গালমন্দ শুনতে হয় হেলেনাকে। এরই জেরে শনিবার বিকেলে নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে আ’ত্মহত্যা করেন হেলেনা। এভাবে হেলানা নয় আরো অনেক হেলেনা এমনকি পিতা ভাই ও সেই পথ বেঁছে নিতে হয়েছে হয়ত তা আমাদের হিসেবে নেই।

বিয়ের কয়েকমাস যেতে না যেতে এসেছে রমজান ইফতারি দিতে না পারা কম দেয়ার কারনে প্রতি বছর কত মেয়েকে স্বামী হারা স্বামীর বাড়ি ত্যাগ করে আসতে হয়েছে সেই হিসেব দিতে গেলে তালিকা হবে অনেক লম্বা। কেন ? কারন এই ইফতারি দেয়া, আসলে এর কোন ভিত্তি নেই এই প্রথার অবসান হওয়া খুব জরুরী।

সিলেটে ইফতার প্রথা পুরাতন এক ঐতিহ্য। যা ইফতারি নামের জুলুম, বাবার বাড়ি থেকে রমজানে মেয়ের বাড়িতে ইফতার পাঠানো হয় । সে ইফতার শুধু মেয়ের বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনা। ছেলের শ্বশুড়বাড়ি থেকে যেদিন ইফতার আসবে সেদিন বন্ধুবান্ধব আর আত্মীস্বজনকে দাওয়াত দেওয়া হয়। সেই সাথে একটি নিরব প্রতিযোগিতা চলে- কার শ্বশুরবাড়ি থেকে কত বেশী আইটেমের ইফতার এলো, কে তার শ্বশুরবাড়ির ইফতার কয়শত মানুষকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াল।

আশে পাশের সবার বাড়ি এমনকি কয়েকমাইল দূরে আত্মীয় স্বজনের বাড়িয়ে দেয়া হয় কে কি পরিমাণ দিতে পারলো সেইটাও একটা দেখার বিষয়। যার শ্বশুরবাড়ী থেকে যত বেশী ইফতার আসে তার তত সুনাম। তেমনি যে মেয়ের বাবার সে সক্ষমতা কম, তিনি ইফতারি দিয়ে খুশি করতে না পারলে- অনেক ক্ষেত্রে কথা শুনতে হয়। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই প্রথার অবসান চায় নতুন প্রজন্ম। নতুন প্রজন্ম একে জুলুম হিসেবে দেখছে। মেয়ের বাবার সাধ্য থাকুক কিংবা না-ই থাকুক; বিয়ের বছরের প্রথম রমজানে বেশ ভালো বাজেট রাখতে হয়। রমজানের প্রথম দিন এক দফা পাঠাতে হয়, ১৫ রমজানের দিকে তথা মাঝামাঝিতে আরেক দফা, শেষ দিকে আরেক দফা কিংবা ঈদের দিন। মেয়ে বিয়ে দিয়ে যে পিতা রিক্ত হয়ে গেলেন, কয়েক দিন কিংবা কয়েক মাস পর সেই মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্ত পরিবারের পিতা কেমন পাঠাবে তার মেয়ের স্বামীর বাড়ি বিশাল ইফতারী; এবং তিনবার।

পিতা-মাতা বহু কষ্টে যে ইফতারী পাঠান, সেটার জন্যও নববধূকে স্বামীর বাড়িতে যে কত কটূ কথা শুনতে হয় আর মানসিক যন্ত্রণা সইতে হয়; ভোক্তভোগীরাই জানে। ‘কম হয়ে গেছে’, ‘অমুকের বাড়ি থেকে কত কিছু পাঠিয়েছে’, ‘তুমি ফকিরনির মাইয়্যা’ ইত্যাদি নানা কথা। রবী ঠাকুরের হৈমন্তি গল্পে পণের জন্য হৈমন্তিকে মানসিক যন্ত্রণা সইতে সইতে একটা পর্যায়ে তাকে চলে যেতে হয় না ফেরার দেশে, এবং অকালে। সিলেট অঞ্চলের নববধুদের এবং বধূদের অনেকেই তাদের শ্বশুরবাড়িতে রমজানের ইফতারী এবং জৈষ্ঠ্য মাসের আম-কাঁঠালের নাইওরীর জন্য কি তার চাইতে কম মানসিক যন্ত্রণা সইতে হয়? শ্বশুর বাড়ির পরিবারের লোকজন তো শুধু কথা শুনায় না; এ ঘর ও ঘর এবং প্রতিবেশিরা নানা কথা কহিয়া যায়; যদি তারা ইফতারী ও আম-কাঁঠালের নাইওরীর ভাগ না পায়।

তিন কারণে ইফতারী প্রথাকে না বলুন। (১) এটা আইন বিরোধী (২) সামাজিক কুসংস্কার (৩) অনৈসলামিক প্রথা যা হিন্দু ধর্ম থেকে এসেছে।
এটা অনৈসলামিক প্রথা দুই কারণে। প্রথমত: এই প্রথা হিন্দু ধর্ম থেকে এসেছে। ইসলাম অন্যান্য ধর্মের খারাপ দিক অনুসরণ করাকে কড়াকড়ি নিষেধ করেছে। বলতে পারেন, হিন্দু ধর্মে তো রোজা নেই, তাদের ধর্মে তো ইফতারও নেই, তাহলে এই প্রথা তাদের ধর্ম থেকে কিভাবে এলো? বাপের বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়িতে দেওয়ার প্রচলন আমাদের এই উপমহাদেশে হিন্দু ধর্মে চালু হয়। হিন্দু ধর্মে মেয়ে পিতার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার পায় না বলে বিয়ের সময় পণ, পরবর্তী সময় আরো বিভিন্ন কিছু দেওয়া হতো, এই যেমন নাইওরী। বাপের বাড়ি থেকে দেওয়ার দর্শন ও ধারণা থেকে ইফতারী প্রথাও আমরা গ্রহণ করেছি হিন্দু ধর্মের দর্শন থেকে। ফলে সরাসরী না হলেও ভিন্নভাবে এই প্রথা হিন্দু ধর্ম থেকে এসেছে। সূরা আহযাবের ৪৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘‘তোমরা (মুসলিমগণ) কাফির ও মুনাফিকদের অনুসরণ-অনুকরণ করো না।” সুনানে আবু দাউদের ৪০৩১ নং হাদীসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদের দলভূক্ত বলে গণ্য হবে।’
দ্বিতীয়ত: ইফতারী প্রথার নামে যে পরিমাণ ইফতার সামগ্রী ও ফলমূল মেয়ের বাপের বাড়ি থেকে পাঠানো হয়, সেটা কি অপচয় নয়? অথচ ইসলামে অপচয় করতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

About Tahsin Rahman

Check Also

শনিবার থেকে দিনে ফেরি চলাচল বন্ধ

করোনা বিস্তার রোধে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক শনিবার (৮ মে) থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে দিনের …