Breaking News

বিএনপিকে চাপে ফেলতে আওয়ামী লীগের ৫ কৌশল

হঠাৎ করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ইতিমধ্যে ধাপে ধাপে কর্মসূচি গ্রহণ শুরু করেছে। একই সাথে বিএনপি তার সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

বিএনপি নেতারা মনে করছে যে, সরকারকে চাপে ফেলার এখনই সময়। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছে যে, বিএনপি যে কৌশলে নিয়ে এগোচ্ছে সে কৌশলে সরকারকে চাপে ফেলতে পারবে না বরং বিএনপি নতুন করে সংকুচিত হবে নতুন চাপে।

বিএনপিকে চাপে রাখার জন্য সরকার পাঁচটি কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা নিশ্চিত করেছে। আর এই কৌশলের মধ্যে রয়েছে: ১.খালেদা জিয়ার জামিন: খালেদা জিয়ার ছয় মাসের বিশেষ বিবেচনায় জামিন পেয়ে আছেন। এই জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে আগামী ২৫শে মার্চ।

এরপরে জামিনের মেয়াদ বাড়বে কি বাড়বে না তা নির্ভর করে সরকারের উপর বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর উপর। কারণ কোন আদালতের নির্দেশে নয় বরং বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হয়েছে সরকারের নির্বাহী আদেশে। ফৌজদারি কার্যবিধি ৪০১ ধারা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে বেগম খালেদা জিয়া ছয় মাসের জন্য জামিন পেয়েছেন।

সরকার চাইলেই জামিন যেকোনো সময় বাতিল করতে পারে আবার নবায়নও করতে পারে । এই জামিন কে সরকার মনে করছে বিএনপির জন্য এক ধরনের ট্রাম্প কার্ড । এই জামিনের ইস্যুতে বিএনপি যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে বা বড় ধরনের আন্দোলন করতে চায় তখন সরকার এই কার্ড ব্যবহার করবে এবং তাতেই বিএনপির বড় ধরনের চাপে পড়বে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা।

২. বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা: গত ১৪ বছরে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে মামলা রয়েছে। এই মামলাগুলো কখনও সফল হয় আবার কখনো নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকার মনে করছে যে, বিএনপি যদি বাড়াবাড়ি করে তাহলেই মামলাগুলোকে সচল করে বিএনপিকে বড় ধরনের চাপে ফেলা যাবে। বিএনপির প্রায় সব নেতাই গ্রেপ্তারের ঝুঁকিতে পড়বেন । আর এই মামলাগুলো বিএনপি`র জন্য এক ধরনের চাপ। আওয়ামী লীগ বিএনপিকে চাপে রাখার জন্যই মামলাগুলোকে ব্যবহার করবে।

৩.বিএনপি`র অভ্যন্তরীণ সংকট: বিএনপি`র একটি অংশের সঙ্গে সরকারের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে । এবং এই অংশটি সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে বলে আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন। কাজেই যখন বিএনপি আন্দোলন ও নানা ইস্যুতে চাপ সৃষ্টি করবে তখন বিএনপিতে যারা সরকারের পক্ষের লোকজন আছে তারা তখন এই আন্দোলনটি বিভক্তির দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারবেন । বিএনপি নেতারাও স্বীকার করেছেন যে, তাদের দলে সরকারের এজেন্ট রয়েছে। কাজেই এই ধরনের আন্দোলনের চেষ্টা বিএনপিকে আরও বিভক্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং সেটা বিএনপি`র জন্য নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

৪. জামায়াত ইস্যু : বিএনপির সাথে জামায়াতের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এবং কোনভাবেই সেই সম্পর্ক কেউ ছাড়তে রাজি না। যদিও বিএনপি নেতারা এই সম্পর্ক স্বীকার করেন না। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধীদল বিলুপ্ত হলেও বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করে নাই। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই মনে করেন যে, বিএনপি`র আজকের নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার পিছনে রয়েছে জামাতের মদদ । আর এজন্যই জামায়াতকে যদি চাপে রাখা যায় বিএনপিকেও চাপে রাখা যাবে ‌‌। আর এই কৌশল অবলম্বন করে নতুন করে সরকার জামায়াত বিরোধী কর্মকাণ্ড শুরু করতে চায় । কারণ সামনে স্বাধীনতার মাস স্বাধীনতার ৫০ তম বার্ষিকী উদযাপন। এ সময় জামায়াত বিরোধী অবস্থান সরকারকে একদিকে যেমন জনপ্রিয় করবে তেমনি বিএনপিকেও চাপে ফেলবে।

৫. আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি: মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ব্যাপক কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নামতে চায়। আর এই কর্মসূচি গুলো বিএনপি`র বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের চাপ চাপ হিসেবে কাজ করবে বলে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছে। মূলত এই ৫ কৌশলই নিয়েই আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপিকে চাপে রাখার জন্য নিয়ে এগোচ্ছে। নিউজ ক্রেডিটঃ banglainsider

About Tahsin Rahman

Check Also

এবার আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন তামিমার দ্বিতীয় স্বামী অলক!

নাসির মানে ব্যাড বয় খ্যাত নাসির ও তামিমার বিবাহ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া তথা সকল মিডিয়া …