Breaking News

পাঞ্জাবি-টুপি পড়ায় চাকরিচ্যুত দুই শিক্ষক মাথা উঁচু করে কলেজে প্রবেশ করলেন৷ দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস

সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের পাঞ্জাবি-টুপি পড়ার জন্য চাকরিচ্যুত দুইজন সম্মানিত শিক্ষককে কলেজে যেতে মানা করে দেয়া হয় বেতন বন্ধ করে দেয়া হয় তাদের অপরাধ ছিল একটাই তারা নবীর সুন্নত পাঞ্জাবি টুপি না পড়ে প্যান্ট শার্ট পরে কলেজে যাবার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের দেয়া নির্দেশনা মানতে পারেননি।

তাদের দাবি সামান্য চাকুরীর জন্য নিজের ঈমান বিক্রি করে দিতে চাইনা। কোনভাবে সম্ভব নয় পাঞ্জাবি টুপি পরিধান ছেড়ে শার্ট প্যান্ট পরে কলেজে যাওয়া। বিষয়টি জেনে যায় কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা

গতকাল ডাক দেয় কলেজ গেইটের সামনে শান্তিপূর্ণ মানব্বন্দনের। মানব্বন্দনে জড়ো হয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতিবাদ করে রাস্তা অবরোধ করে রাখে দিনভর তারা অবস্থান নেন কলেজ গেইটে। শনিবার দুপুরে কলেজের সামনে

মানববন্ধনকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল আরিফুল ইসলাম রেজা বলেন এ দুই প্রভাষককে অব্যাহতি দেয়া হয়নি। বরং প্রতিষ্ঠানের পোষাকবিধি মানতে না পারলে তারা স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিতে পারবেন- এমনটাই বলা হয়েছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তিনি বলেন, অনলাইনে যে বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে তা সত্যি নয়। প্রভাষক আব্দুল হালিম ও মুজাহিদুল ইসলামের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বা তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়নি।

গভর্নিং বডির ৫২ তম মিটিংয়ে তাদেরকে ডেকে প্রতিষ্ঠানের পোষাকবিধি মানার জন্য কঠোরভাবে বলা হয় এবং ৩১ মার্চের আগে তাদেরকে তিনবার শোকজ পাঠানো হয়। কিন্তু বার বারই তারা দুজন প্রতিষ্ঠানের পোষাকবিধি মানতে অনীহা প্রকাশ করেন। সর্বশেষ ৩১ মার্চ গভর্নিং বডির মিটিংয়ে তাদেরকে ডেকে বলা হয়- প্রতিষ্ঠানের পোষাকবিধি না মানলে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিতে পারেন। তবে তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। এটাই তাদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ।
তবে ভাইস প্রিন্সিপাল আরিফুল ইসলাম রেজার এমন বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি বিক্ষোভকারীরা। তাই তারা দিনভর কলেজ গেটের সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। পরে সাড়ে ৩টার দিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে ৬ শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এসময় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়- প্রয়োজনে কলেজের পোষাকবিধি পরিবর্তন করে প্রভাষক আব্দুল হালিম ও মুজাহিদুল ইসলামকে স্ব স্ব স্থানে পুনর্বহাল করতে হবে। এ মর্মে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে রোববার সকালে একটি লিখিত আবেদন ও সুপারিশ কলেজ কর্তৃপক্ষ বরাবরে দাখিল করা হবে। দাবিগুলো আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তারা।

মতবিনিময়কালে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। এসময় জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মো. কুদ্দুসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এর পর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ও ঐ দুই শিক্ষক সবাইকে বাসায় ফিরে যেতে অনুরধ করেন। প্রতিনিধি দলের সাথে ঐ দুই শিক্ষককে কলেজের ভিতর যেতে ও বাহির হয়ে আসতে দেখা যায়।

About Tahsin Rahman

Check Also

এটাকি পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে গেছে নাকি- বলা যুবকের সাথে হা’তাহাতি, ৩ পুলিশ শা’স্তিমূলক ক্লোজড

সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ভাইরাল সেই ভিদিওতে দেখা যায় একজন যুবকের সাথে কয়েকজন পুলিশ হা’তাহাতি করতে …