Breaking News

দেশের ইতিহাসে আলোড়ন সৃষ্টি কারী সার্জেন্ট হেলালের পরিবারের খবর কেউ রাখেনি

দেশের ইতিহাসে চোরাচালানের অস্ত্র আটকের সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটেছিল ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল। ১৭ বছর আগে আজকের এই দিনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে চট্টগ্রামের সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাক ভর্তি অস্ত্রের চালান।

দেশ-বিদেশে আলোড়ন তুলেছিল এ ঘটনা। এ আটক অভিযানের অন্যতম এক নায়ক ছিলেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার গেবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ও চট্টগ্রামের কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন।

২০১৮ সালের ১৭ জুন ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। দুর্ঘটনার পর তার স্ত্রী ইয়াসমিন জুয়েলকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু উপহার ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মাহবুবুর রহমান।

এর বাইরে চাকরির পেনশন ছাড়া সরকার কিংবা পুলিশ বিভাগ থেকে আর কোনো সহায়তা পায়নি হেলালের পরিবার। গতকাল বুধবার কুমিল্লার ভাড়া বাসায় ইয়াসমিন জুয়েল সমকালের কাছে তুলে ধরেন অস্ত্র উদ্ধারের ওই ঘটনায় তার স্বামী হেলালের ভূমিকা,

এরপর মিথ্যা অস্ত্র মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো ও পরে মুক্তি, ছয় বছর পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরি ফিরে পাওয়া, পরিদর্শক পদে পদোন্নতি, পিপিএম পদক লাভসহ নানা বিষয়। ইয়াসমিন বলেন, স্বামীর পেনশনের টাকায় মেডিকেলের প্রথম বর্ষে অধ্যয়নত

মে’য়ে এবং নগরীর একটি সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছেলের পড়ালেখা, বাসা ভাড়া ও পরিবারের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ যেন নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা। হেলাল কারাগারে থাকা অবস্থায় ভিটেমাটি ছাড়া জমি বিক্রি ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে করা ধারদেনা পেনশনের টাকা পেয়ে পরিশোধ করা হয়। তিনি বলেন, হেলালের মৃত্যুর পর তৎকালীন সিএমপি কমিশনারের ব্যক্তিগত সহায়তা ছাড়া পুলিশ কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে আর কেউ খবর রাখেনি আমাদের পরিবারের।

ইয়াসমিন বলেন, ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক করার জন্য সার্জেন্ট হেলাল ও সার্জেন্ট আলাউদ্দিনকে (দু’জনই একই ব্যাচের ছিলেন) পুরস্কারের বদলে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছিল। অস্ত্র উদ্ধারের এক বছর পর ২০০৫ সালের ২০ আগস্ট একে-৪৭ রাইফেল রাখার মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ফেনীর সুধারাম থানায় মামলা হয় তাদের বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তার করা হয় তাদের। এরপর নির্যাতনে হেলালের একটি পা ভেঙে যায়।

ইয়াসমিন বলেন, ২০০৫ সালের ১৯ আগস্ট থেকে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট পর্যন্ত হেলালের জীবনে ছিল চরম ক্রান্তিকাল। সাময়িক বরখাস্ত হওয়ায় তার বেতন হয়ে যায় অর্ধেক। রেশনও বন্ধ করে দেওয়া হয়। হেলালের বড় অপরাধ ছিল ‘১০ ট্রাক অস্ত্র আটক করা’। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার পুনরায় তদন্ত শুরু হয়। সিআইডির তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, সার্জেন্ট হেলাল ও আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা ছিল সাজানো। পরে সিআইডির এ তদন্ত প্রতিবেদনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভায় দুই সার্জেন্টের নাম অস্ত্র মামলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। দুই বছর চার মাস বন্দি থাকার পর ২০০৭ সালের ৫ নভেম্বর উচ্চ আদালতের দেওয়া জামিন আদেশে ১৩ নভেম্বর জামিনে বের হন হেলাল। ২০১০ সালের দিকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর ২০১১ সালের ৮ আগস্ট চাকরি ফিরে পান হেলাল ও আলাউদ্দিন। পরে ২০১৪ সালে তারা পিপিএম পদক লাভ করেন। ২০১৫ সালে হেলাল পুলিশ পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সিএমপির বন্দর থানার প্যাট্রল ইন্সপেক্টর (পিআই-বন্দর) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

About Tahsin Rahman

Check Also

মধ্য রাতে হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আটক

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগরীর সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব …