Breaking News

দুই ভাইয়ের কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের টালমাটাল অবস্থা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র কাদের মির্জা। সম্পর্কে তারা দুই ভাই। এই দুই ভাইয়ের কর্মকাণ্ডে এখন আওয়ামী লীগের টালমাটাল অবস্থা।

ফলে, স্থানীয় রাজনীতির বিরোধ এখন জাতীয় রাজনীতিতে এসে গড়িয়েছে। এমন একটি পরিস্থিতি হয়েছে যে, দুই ভাইয়ের কারণে আওয়ামী লীগের চেইন অব কমান্ড পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

দুই ভাইয়ের কারণে আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারাও ফ্রিস্টাইলে কথাবার্তা বলছেন। ফলে, দলের শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন যে, কাদের মির্জা শুরু থেকেই লাগামহীন কথাবার্তা বলছিলেন। এখন তিনি সমস্ত শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছেন।

দুজন এমপি হ”ত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেছেন। এই দুজন এমপি আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এমপি। এর ফলে আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যে বিরোধ দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে আওয়ামী লীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্য মনে করেন। উল্লেখ্য যে, কাদের মির্জা নির্বাচনের সময় অন্তত ৫ জন এমপিকে আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছিলেন।

তিনি নির্বাচনে বিজয়ের পর ফরিদপুরের এমপি নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন। নির্বাচনের সময় শাজাহান খানের বিরুদ্ধে কথা বলেন। একরাম চৌধুরী তাঁর সার্বক্ষণিক শত্রু হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে ওবায়দুল কাদের কোন বক্তব্য রাখেননি।

শুধু যখন তিনি শপথ নেয়ার জন্য চট্টগ্রামে এসেছিলেন, তখন ওবায়দুল কাদের তাকে শান্ত থাকতে বলেছিলেন। কিন্তু ওবায়দুল কাদেরের এই নির্দেশনাও মানেনি মির্জা কাদের।

আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন যে, নোয়াখালীর রাজনীতিতে আধিপত্য তৈরি করার জন্যই দাবার ঘুঁটি হিসেবে কাদের মির্জাকে ব্যবহার করছেন ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে একরামুল চৌধুরীর দীর্ঘদিনের পুরোনো বিরোধ এবং ২০০১ এর নির্বাচনের পরেই বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। তারপরও এখন এই বিরোধ নতুন করে তৈরি হয়েছে। নোয়াখালীর রাজনীতিতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাই এই বর্তমান বিরোধের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ অনেক নেতারা।

তবে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন যে, ওবায়দুল কাদের নোয়াখালীর নেতা নন, তিনি জাতীয় নেতা। আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে তিনি অধিষ্ঠিত আছেন। এই অবস্থায় তার দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। কাদের মির্জা একজন স্থানীয় পর্যায়ের নেতা। তাকে নিয়ম শৃঙ্খলা মধ্যে নিয়ে আসা এবং দলের সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিয়ে আসা দলের সাধারণ সম্পাদকের একটি দায়িত্ব। নিজের ভাইয়ের জন্য তিনি এটি করতে পারছেন না, তাহলে দলের শৃঙ্খলা তিনি কিভাবে আনবেন।

আওয়ামীলীগের নেতারা মনে করছেন যে, কাদের মির্জা যে ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে এবং সর্বশেষ তিনি দুজন এমপিকে হ”ত্যাচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। এর ফলে, এখনই যদি এটি সুষ্ঠু তদন্ত না হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে এই অস্থিরতা শুধু নোয়াখালীতে থাকবে না, পুরো আওয়ামী লীগের ছড়িয়ে পড়বে। কিছুদিন ধরে আওয়ামী লীগের মধ্যে অনৈক্য, বিশেষ করে দলের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দলের সিনিয়র নেতাদের বিরোধের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। দলের সাধারণ সম্পাদক দলের শৃঙ্খলা, বিদ্রোহী প্রার্থীদের দ’মন করা এবং অনুপ্রবেশকারীদের দল থেকে বের করে দেওয়ার ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছিলেন না বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। এই বাস্তবতায় এখন কাদের মির্জার এই বক্তব্য আওয়ামী লীগে ভিন্নরকম অর্থ তৈরি করছে। অনেকে মনে করছেন যে, ওবায়দুল কাদেরের প্রশ্রয়ে কাদের মির্জা এই কথাগুলো বলছেন। এর ফলে পুরো আওয়ামী লীগের মধ্যেই এক ধরনের অস্বস্তি এবং বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। কপি বাংলা ইনসাইডার থেকে

About Tahsin Rahman

Check Also

এবার আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন তামিমার দ্বিতীয় স্বামী অলক!

নাসির মানে ব্যাড বয় খ্যাত নাসির ও তামিমার বিবাহ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া তথা সকল মিডিয়া …