Breaking News

ছোট ভাইকে কেন দুটো ডুপ্লেক্স বাড়ি দিয়ে দিলেন, অবশেষে জানালেন ন্যান্সি

বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি প্রায় সময় নানা কারণে আলোচনায় আসেন। সম্প্রতি এই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সামাজিক যোহগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন।

আর সেই স্ট্যাটাসে তিনি তার দুটো ডুপ্লেক্স বাড়ির কথা তুলে ধরেন। তার সেই দুটো ডুপ্লেক্স বাড়ি তিনি তার ছোট ভাইকে দিয়ে দিয়েছেন বলে জানান। তার সেই স্ট্যাটাসের পর অনেকে নানা রকম মন্তব্য করতে শুরু করেন।

তবে এবার এই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী গণমাধ্যমের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি জানিয়েছেন কেন তার ভাইকে দুটো ডুপ্লেক্স বাড়ি দিয়ে দিলেন।নিজের নামে থাকা দুইটি ডুপ্লেক্স বাড়ি লিখে দিয়েছেন তার আপন ছোট ভাইয়ের নামে।

এরপর নিজেকে গৃহহীন হিসেবে দাবি করেছেন তিনি। বলেছেন, দুটো ডুপ্লেক্স বাড়ির মালিক থেকে গৃহহীন হয়ে গেলাম।কয়েকদিন আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক স্ট্যাটাসে ন্যান্সি লিখেন,

’দরবারি’ আমার ময়মসিংহের বাসার নাম, ’বিলাবল’ আমার নেত্রকোনার বাসার নাম। হঠাৎ সিন্ধান্ত নিলাম এসব বৈষয়িক ঝামেলা থেকে মুক্ত হওয়া দরকার। জায়েদ আমার উপার্জন অথবা বিষয়-সম্পত্তি নিয়ে কখনোই নাক গলায়নি,

বরং সে বরাবরই নিজের পৈতৃক সম্পত্তির ক্ষেত্রেই উদাসীন! কাজেই বলা চলে এসব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবার বেলায় আমি শতভাগ স্বাধীন।ন্যান্সি লিখেন, দুই কন্যার মতামত জানা দরকার বলে মনে হলো।

নায়লা যেহেতু মতামত জানাবার মত বয়সে এখনো আসেনি তাই রোদেলাকেই জানালাম- আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমার দুটো বাড়ি আমি দান করে দেব, তোমার কি কোনো আপত্তি আছে? উত্তরে মেয়ে স্পষ্ট গলায় বললো-

তোমার সম্পত্তি তুমি যাকে খুশি তাকে দাও, আমাকে জিজ্ঞেস করার কী আছে? আমি নিজের যোগ্যতায় কিছু করতে চাই। মনে হলো সন্তানকে ঠিকভাবেই মানুষ করতে পেরেছি, খুব আনন্দ হলো.. খুব.. খুব.. খুব। একমাত্র বান্ধবী হ্যাপি যার প্রধান কাজ আমার সকল সঠিক বা বেঠিক কাজে সায় দিয়ে যাওয়া, বরাবরের মত সে একই চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছে।

জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী লিখেন, এদিকে আমার ইচ্ছে জানার পরে গ্রহীতার চেহারা দেখবার মত ছিলো। আমি তারপর কয়েকজন এর সাথে পরামর্শ করলাম কিন্ত সবাই আমায় নিরুৎসাহিত করল। তাতে অবশ্য কিছুই যায় আসে না। কারণ সারাজীবন আমি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছি। ঠকেছি, শিখেছি, বারবার হেরেছি কিন্ত পথ চলা থামাইনি। দুদিনের মধ্যে দুটো ডুপ্লেক্স বাড়ির মালিক থেকে গৃহহীন হয়ে গেলাম! আপাতত সম্বল স্বামীর ঘর, পরে কী হবে সেটা পরে দেখা যাবে। আর মৃ’’ত্যু’’র পরে মাটির ঘর তো আছেই।

বেশ হালকা লাগছে, যেন কোনো চাপ নেই উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের সম্পদ নামের কদর্য ’’সং’’ঘা’’ত’’ থেকে আমি মুক্ত। আমি পৃথিবী ঘুরতে চাই, প্রা’ণখুলে হাসতে চাই, চিৎকার করে কাঁ’দতে চাই, গান গেয়ে যেতে চাই। এসবের জন্য যতটুকু অর্থের প্রয়োজন সেটা আমার আছে, ওতেই চলবে। বাড়ি দুটোর বর্তমান মালিক আমার একমাত্র ছোট ভাই Shahria Aman Sani। তবে বাড়ির মালিক সানি হলেও আজীবন এ বাড়িতে থাকবার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়নি। এই বেশ ভালো আছি।’

কেন এবং কী কারণে নিজের ছোট ভাইয়ের নামে দুটি ডুপ্লেক্স বাড়ি লিখে দিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে গণমাধ্যমকে ন্যান্সি বলেন, সানির প্রতি এটা আমার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তার প্রতি আমার বিশ্বাস এবং আস্থা এতটাই বেশি যে আমার সন্তানদের যতটা ভালোবাসি ঠিক ততটাই আমি তাকে ভালোবাসি। সানিকে আমি শুধু ভাই-ই মনে করি না সে আমার সন্তানের মতো। আমার চোখের সামনে আমার বড় মেয়ে রোদেলা আর সানি বড় হয়েছে। সুতরাং আমি তাকে আমার সন্তানের মতই ভালোবাসি।

তিনি বলেন, এছাড়াও আমার কাছে মনে হয়েছে এসব জায়গা জমি দিয়ে কী হবে। এসব থাকা মানে একটা ঝামেলা, একটা পেইন। বৈষয়িক চাপ ও রক্ষণাবেক্ষণ, জায়গা জমি ঠিক রাখা, হিসেব রাখা এসব আমার কাছে অনেক কঠিন মনে হয়। তাই সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তার নামে বাড়ি লিখে দিয়েছি।

সন্তানদের রেখে কেন ছোটভাইকে বাড়ি লিখে দিলেন এমন প্রশ্নে ন্যান্সি বলেন, রোদেলা-নায়লার বাবার যা আছে তা-ই তাদের জন্য যথেষ্ট। তার বাবার সম্পত্তি দিয়ে বাকি জীবন পার করে দিতে পারবে। তার চেয়েও বড় কথা ভালোবাসা, আস্থা আর বিশ্বাসের জন্যই সানিকে বাড়ি লিখে দিয়েছি।

এদিকে দুইটি ডুপ্লেক্স বাড়ি পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে ন্যান্সির ছোট ভাই সানি তার ফেসবুকে লিখেন, ’আপুকে নিয়ে লিখতে গেলে কেন জানি লিখতে পারি না। আপু এমন একজন মানুষ যে সবসময় দিয়েই গিয়েছে কিন্তু কিছু পাওয়ার আশা করেনি। ছোট থেকেই আমার এমন কোন আবদার নেই যা আপু পূরণ করেনি। মাঝে মাঝে ভাবি একজন মানুষ এতটা উদার কিভাবে হতে পারে? বলা হয় মায়ের ঋণ শোধ করা সম্ভব না, কিন্তু আপুর ঋণ শোধ করাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। গত দুইদিনে আপু তার নেত্রকোনা এবং ময়মনসিংহের দুটো ডুপ্লেক্স বাড়ি আমাকে দান করে দেয়। আপুর এই অগাধ বিশ্বাস আর ভালোবাসার মর্যাদা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধরে রাখতে চাই। আপু তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে সানি বলেন, এখানে আমার মানেই আপুর, আপুর মানেই আমার। সে আমার ওপর আস্থা এবং বিশ্বাস রেখেছে আপনার দোয়া করেন যেন আমি সেই আস্থা এবং বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পারি।

প্রসঙ্গত, নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি ২০০৬ সালে আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা ছবিতে ’পৃথিবীর যত সুখ’ গানটির মধ্য দিয়ে গানের ক্যারিয়ার শুরু করেন। তিন বছর পর থেকে মঞ্চে নিয়মিত গাওয়া শুরু করেন তিনি। সিনেমায় গান গেয়ে ২০১২ সালে সেরা সংগীতশিল্পী হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এছাড়াও গান গেছে জিতেছেন অসংখ্য পুরস্কার। সূত্র:সময়নিউজ

এছাড়া এই জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রায় সময় নানা রকম সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত থাকেন। বিশেষ করে দেশে যখন করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করে ঠিক এই সময় তিনি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। এমনকি এই করোনা ভাইরাসের কারণে তার নেত্রকোনার বাড়ি রোগীদের আইসোলেশনের জন্য ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর এই সংবাদ প্রকাশের পর তিনি অনেক সম্মানিতথয়েছিলেন। একই সাথে তিনি একজন মানবিক মানুষ হিসেবেই পরিচিত হন।

About jannatul ferdous

Check Also

ছেলেকে ভাই ডাকার কারণ জানালেন শ্রাবন্তী

২০০৩ সালে নির্মাতা রাজিব বিশ্বাসের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন শ্রাবন্তী। স্বামী রাজিব বিশ্বাসের সঙ্গে পরে …