Breaking News

ক্যাম্পাসে গরু-ছাগল ঢুকলে জরিমানা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গরু-ছাগল প্রবেশ করানো নিষিদ্ধ। এই নির্দেশনা অমান্য করার শাস্তি হিসেবে মালিক পক্ষের থেকে গরুর জন্য ২০০ টাকা ও ছাগলের জন্য ১০০ টাকা জরিমানা

আদায়ের নির্দেশনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। তবে এই নির্দেশনা অমান্য করে পার্শ্ববর্তী এলাকার বসবাসকারী মালিক পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু-ছাগল ছেড়ে দিয়ে যায়। ফলে গরু-ছাগল ঢুকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রোপণ করা ফুল-ফলের গাছ খায়,

ভেঙে ফেলে ও পরিবেশ নষ্ট করে। এতে আর্থিক ও পরিবেশগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় অর্ধশত গরু-ছাগল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছপালা, পরিবেশের ক্ষতি করে আসছে।

তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে জরিমানা আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান। তিনি বলেন, গরু-ছাগল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢুকে প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়মিত নষ্ট করে যাচ্ছে, যার মূল্যমান অনেক।

মালিক পক্ষকে বিভিন্ন সময়ে বুঝিয়েও প্রতিকার না হওয়ায় জরিমানা আদায়ের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা পেয়ে কাজ শুরু হয়েছে। ১৩ মার্চ (শনিবার) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান থেকে ১টি বাছুরসহ ২টি গরু ও ২টি ছাগল আটক করে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা।

এরপর নির্দেশনা অমান্য করায় মালিক পক্ষের থেকে ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। নিয়মানুযায়ী, জরিমানার ৫০% টাকা জমা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসেবে, বাকি ৫০% টাকা পায় গরু-ছাগল আটক করা আনসার/গার্ড সদস্য। আটককৃত গরুর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আনসার সদস্যের গরু থাকায় তার থেকেও ২০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৫৭ একর জায়গায় অবস্থান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ এলাকা অরক্ষিত থাকায় বিভিন্ন পথ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু-ছাগলের পাল ছেড়ে চলে যায় পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী মালিক পক্ষ। ফলে এসব গরু-ছাগল এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে রোপণ করা ফল-ফুল, ঔষধি গাছ সমূহ খায় ও নষ্ট করে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনার উপরে ওঠে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সৌন্দর্য ব্যাহত হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বছরে নিয়মমাফিক বৃক্ষরোপণ করে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ, পরিবেশবাদী সংগঠনসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে গাছ খেয়ে ফেলছে গরু-ছাগলের পাল। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ বাড়ছে না। যেখানে ফুলে ফুলে রঙিন থাকার কথা সেখানে পরিকল্পনা মাফিক সৌন্দর্যবর্ধন করা সম্ভব হচ্ছে না। জরিমানা আদায়ের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পরিবেশের উপর ক্ষতিসাধন রোধ করা সম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধন কমিটির সদস্য-সচিব দ্রাবিড় সৈকত জানান, প্রধান সমস্যা গরু-ছাগল। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গাছ রোপণ হয় তবে তা গরু-ছাগলের পেটে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কঠোর ব্যবস্থা নিয়মিত বাস্তবায়ন করা গেলে গরু-ছাগলের উৎপাত রোধ করা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে উঠবে।

About Tahsin Rahman

Check Also

মৌলভীবাজারে ২ মাসের মাথায় গৃহহীনদের ঘর লণ্ডভণ্ড- আহত ২০ – ভিডিও সহ

গৃহ নির্মাণ’ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ অনেক আগে থেকেই পাওয়া গেছে। এসব ঘর …