Breaking News

উপহার পেয়েও খুশি নয় ভূমিহীনরা, বিপদের আশঙ্কা রয়েছে

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীনদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

কুলিয়ারচর এলাকায় উপহারের ঘর পাওয়া মো: চান্দু মিয়া (৪৫), মো: মিজান (৩৫, মো: মাসুদ মিয়া (৪৫) ও মো: ফারুক অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালু, কাঠ, টিন ও প্রয়োজনের তুলনায় সিমেন্ট কম ব্যবহার করা হচ্ছে।

ফলে দেয়াল থেকে আস্তর ধ্বসে পড়ছে। ভেঙ্গে পড়ছে দেয়াল ও ফিলার। সৌন্দর্যের জন্য দেয়ালে ব্যবহার করা রঙ একেবারেই নিম্নমানের হওয়ায় লাগানোর পর পরই তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নির্মাণকৃত ঘর কোনোটা উচু আবার কোনোটা নিচু।

নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ হওয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েও বিপদের আশঙ্কা রয়েছে অনেকের। তাই এমন উপহার পেয়ে খুশি নয় অনেকেই। ভূমিহীনদের নামে দুই শতাংশ খাসজমি বরাদ্দ থেকে শুরু করে ঘর নির্মাণ কাজের প্রতিটি ধাপে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রি ব্যবহারের ফলে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সরকারের এই মহৎ উদ্যোগ।

উপজেলার বাজরা ও জগৎচর এলাকায় ব্যারাকের সুবিধাভোগী চার নম্বর ঘরের মালিক মো: বাচ্চু মিয়া, সাত নম্বর ঘরের মালিক জহুরা বেগম, ৯ নম্বর ঘরের মালিক মো: সবুজ মিয়া ও ১১ নম্বর ঘরের মালিক রোকিয়া বেগমের সাথে কথা হলে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর এখনো পাইনি। তবে ঘরের চাবি পেয়েছি।

এর কারণ হিসেবে তারা বলেন, ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। শুধু তাই নয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে ম্যানেজ করে বাজিতপুর উপজেলার বিত্তবান লোকসহ জায়গা-জমি আছে এমন সচ্ছ ব্যক্তিরাও প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরের মালিক হয়েছে। অথচ এদের চেয়ে অসচ্ছ ব্যক্তি থাকলেও তারা এ ঘর পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এমনকি সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ-২-এর আওতায় এ উপজেলায় ২০টি ভূমিহীন পরিবারকে দুই শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে একটি করে সেমি পাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। যার প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। এই প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন কাজের দেখভাল করছেন স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। এ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ বাস্তবায়নে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়াৎ ফেরদৌসী এবং ঘর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছেন প্রকল্পের সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার কাজের তদারকি করছেন বলে তার অফিস সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনিই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহযোগিতায় উপজেলার দ্বাড়িয়াকান্দি এলাকার সালাহউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রি দিয়ে এসব ঘর নির্মাণ করেছেন বলে জানা যায়।

ভূমিহীনদের মাঝে দুই শতাংশ করে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়ার দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সারমিন সাত্তার। তিনিও বিভিন্ন ইউনিয়নের নায়েবদের সহযোগিতায় প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে সরকারি খাস জমির দলিল রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে জমি ও গৃহ আছে এমন সচ্ছ ব্যক্তিদের মাঝে দুই শতাংশ করে ভূমি রেজিস্ট্রি করে দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। এলাকাবাসীর ধারণা, কোনো লাভ ছাড়া তিনি এ কাজগুলো করেননি।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘর নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রি ব্যবহার করে ও সিমেন্ট কম দিয়ে মিস্ত্রীরা কোনোরকমে ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। দেয়ালে হাত দেয়ার সাথে সাথে দেয়াল থেকে আস্তর খসে পড়ছে। যেকোনো মুহূর্তে এসব ঘর ধ্বসে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। হালকা বাতাস কিংবা ঝড় এলে ঘরের চালার টিন, দরজা, জানালা ছিড়ে তছনছ হয়ে মারাত্মকভাবে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে সুবিধাভোগীরা। নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে ঘর তৈরি করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সরকারের কাছে টেকসই মজবুত ঘর নির্মাণের জন্য দাবি জানান।

এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খাদিজা আক্তারের কাছে ঘর নির্মাণের ওয়ার্ক ওয়াডার দেখতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলুন।

ঘর নির্মাণ কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজ হওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রকল্পের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়াৎ ফেরদৌসী ক্ষেপে গিয়ে বলেন, ‘কে অভিযোগ করেছে? তাকে আমার অফিসে নিয়ে আসেন এবং লিখিত অভিযোগ করুন।’

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছির মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীনদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর নির্মাণে কোনোরকম দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। যদি কেউ নিম্নমানের সামগ্রি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর নির্মাণ করে সরকারের এ মহৎ উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ভাবমূর্তী ক্ষুণ্ন করে তা হলে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়নে দুর্নীতি মুক্ত শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়িত হবে।

About Tahsin Rahman

Check Also

শনিবার থেকে দিনে ফেরি চলাচল বন্ধ

করোনা বিস্তার রোধে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক শনিবার (৮ মে) থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে দিনের …