Breaking News

আ:লীগ সভাপতির রোষানলে পড়ে মানব দরদী রায়হান নিজের ফাঁ’সি চান-

কখনো উত্তরের বানভাসি মানুষের পাশে, আবার কখনো দক্ষিণে সাহায্য হাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুঃখীদের কাছে। তাঁর ভালোবাসায় ঈদের পোশাকে দুস্থ শিশু হাসে, অসহায় মানুষও ফুটপাতে ইফতারে বসে।

ক’রোনায় চারদিক দিশাহারা, গ্রামের নি’রক্ষর মানুষগুলো তাঁকে পেয়ে যেন আ’ত্মহারা। গ্রাম আর শহরে বৃক্ষযোদ্ধা নামেই সবাই তাঁকে চেনে, অসুস্থ রোগীরা তাঁর রক্তেই নতুন জীবনে মাতে।

এই মানবদরদির নাম মাহমুদুল হাসান রায়হান। দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীতে তাঁর বাস। সেখানকার সরকারি কলেজে পড়ছেন হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে। পড়াশোনার পাশাপাশি আর্তমানবতায় নিজেকে উজাড় করে দেওয়া ছেলেটির নেশা।

তাঁর সেবামূলক সব কাজই জননন্দিত। আর এখন এক আওয়ামী লীগ নেতার রো’ষানলে পড়ে ক্ষো’ভে-দুঃখে তিনি নিজেই নিজের ফাঁ’সি চান।করোনার মধ্যে এই রমজানে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আয়োজন করেন ইফতারের।

রমজানের শুরুতে বেশ কয়েক দিন চলছিল ইফতার কার্যক্রম। এ কাজেও আলোচিত হয়ে ওঠে রায়হান এবং তাঁর দল। শেষ রমজান পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েও তা রক্ষা করতে পারলেন না।

গত মঙ্গলবারের এক ‘ঝড়’ সব করে দিয়েছে এলোমেলো। সেদিন পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন ও তাঁর কয়েক সাঙ্গোপাঙ্গ শহরের সার্কিট হাউস রোড এলাকায় এসে রায়হান ও তাঁর সহকর্মীদের ওপর চড়াও হয়।

মারধর করে ইফতার কার্যক্রম ভণ্ডুল করে দেওয়া হয়। এরপর ক্ষো’ভে, হ’তাশায় নিজেকে সব ধরনের সেবামূলক কাজ থেকে গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন রায়হান। অথচ যেকোনো দুর্যোগে কিংবা অসহায় মানুষের জন্য রায়হান ও তাঁর দলই ছিল ‘আশার আলো’।রায়হান জানান, ২০০৯ সালে পটুয়াখালী আব্দুল করিম মৃধা কলেজে এইচএসসিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তখন তাঁর এক সহপাঠী জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। অর্থাভাবে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে মেয়েটির চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে নিজে উদ্যোগী হয়ে তহবিল গঠন করে টাকা সংগ্রহ করে চিকিৎসা করিয়েছেন। এর পর থেকে অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে হবে—এমন মানসিকতা নিয়ে কাজ শুরু করেন। সহপাঠী বন্ধুদের নিয়ে গঠন করেন ‘আমাদের বন্ধু সংগঠন’।

এই নামেই সব সেবামূলক কার্যক্রম চলছিল। এরপর ‘পটুয়াখালীবাসী’ ব্যানারে রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা নিয়ে চলে যান রোহিঙ্গা শিবিরে। এরপর উত্তরাঞ্চলের বানভাসি মানুষের পাশেও দাঁড়িয়েছিল ‘পটুয়াখালীবাসী’। জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় ব্যবসায়ী, এলাকাবাসী, পটুয়াখালীর সন্তান যাঁরা সরকারের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন পদে কর্মরত রয়েছেন—সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে রায়হান ও তাঁর দল ‘পটুয়াখালীবাসী’ মানবিক সংগঠন হিসেবে আপন হয়ে ওঠে।রায়হান বলেন, ‘কেন, কোন কারণে উনি আমার ও আমার দলের ওপর হামলা করেছেন জানি না। তবে হামলার সময় তিনি আমাকে থাপ্পড় ও লাথি মেরেছেন। তিনি বলেছেন, পারমিশন নিয়েছিস? পটুয়াখালীতে তোর এবং তোর সংগঠনের কোনো কার্যক্রম চলবে না। এসব বলে তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন ব্যাপক মারধরের জন্য তাড়া দিলে আমরা দৌড়ে জীবন রক্ষা করি।’

আওয়ামী লীগের সিনিয়র দুজন নেতা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, ‘সভাপতি একটু বদ’মেজাজি টাইপের মানুষ। পরশ্রীকাতরতায় ভোগেন। রায়হান ও তাঁর দল তাঁকে (সভাপতি) তাদের (পটুয়াখালীবাসী) ভালো কাজে ডাকেনি বলে তিনি ওই ঘটনা ঘটিয়েছেন। এটি নিন্দনীয়।’রায়হান আরো বলেন, ‘আমি এবং আমার দল একটি মানবিক পটুয়াখালী তৈরির চেষ্টা করেছিল। আমি ঝুঁকি নিয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো মানবসেবায় ব্যয় করেছি। অসহায়, অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছি। এটা যদি অপরাধ হয়, তাহলে আমি আমার ফাঁ’সি চাই।’জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি

About nishat nishat

Check Also

চাঞ্চল্যকর নথি ফাঁস! করোনাকে যা হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল চীনের

সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পেছনে চীনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হাত রয়েছে, এমন অভিযোগ বার …