এখনো সময় আছে আসুন, আমরা শেষ পর্যন্ত আপনাদের জন্য অপেক্ষা করব: ইসি

রাজনীতি: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, বিএনপি যদি সময় মতো সংলাপে না আসে আমরা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য অপেক্ষা করবো।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংলাপের চতুর্থ দিন রোববার (১৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে গণতন্ত্রী পার্টির সঙ্গে বসেছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। এই সংলাপ চলবে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত।

বৈঠকে স্বাগত বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমি প্রত্যাশা করব সব রাজনৈতিক দল নির্বাচন নিয়ে তাদের মতামত কমিশনের সংলাপে তুলে ধরবে।

তবে বিএনপি যদি সময় মতো সংলাপে না আসে আমরা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য অপেক্ষা করবো। গণতন্ত্রী পার্টির নেতারা বলেন, কোন দল নির্বাচনে না আসলে বসে থাকা যাবে না, ভোটারদের জন্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

এরপর সাড়ে ১২টা থেকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি। বিকাল ৩টায় বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইসি। কিন্তু বিএনপি আগেই জানিয়ে দিয়েছে তারা সংলাপে অংশ নেবে না।

সংলাপের সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টায় শুরুতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) এবং পরে বিএনএফ, বাংলাদেশ কংগ্রেস ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) সঙ্গে বসছে ইসি।

প্রতিদিন চারটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনটি বড় রাজনৈতিক দলের (আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি) জন্য বরাদ্দ দুই ঘণ্টা এবং বাকি দলগুলোর জন্য বরাদ্দ এক ঘণ্টা। আগামী ৩১ জুলাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের কথা রয়েছে।

এদিকে গত তিন দিনের সংলাপে আমন্ত্রণ পাওয়া ১২টি দলের মধ্যে বিএনপির দুই শরিক বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি সংলাপে অংশ নেয়নি। আর বিএনপিও আগেই জানিয়ে দিয়েছে তারা অংশ নেবে না।

তবে বর্তমান ইসির ডাকে এবারই নয়, এর আগেও তাদের আমন্ত্রণে একবারের জন্যও ইসিতে যায়নি বিএনপি। এমনকি এই কমিশন গঠনের আগে রাষ্ট্রপতির সংলাপেও বিএনপি অংশ নেয়নি।

গত জুন মাসে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছিল কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এতে ১১টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি।

দলগুলো হলো বিএনপি, সিপিবি, বাসদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট নাগরিক, সম্পাদক, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সংলাপ করেছে কাজী হাবিবুল আউয়ালের কমিশন। তারা জানায়, এসব সংলাপে পাওয়া পরামর্শগুলো পর্যালোচনা করে আগামী নির্বাচনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.