এই তো শুরু, এখন শর্ষের ফুল দেখবে: মির্জা ফখরুল

বিলিয়ন ডলার তারা (সরকার) এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে দিয়েছে। এই টাকাটা কাদেরকে দিয়েছে? তাদের সেই সব লোকজন যারা বিভিন্নভাবে দেশে-বিদেশে

ব্যবসা-বাণিজ্য করছে এবং তারা এই টাকাটা নিয়ে বিদেশে পাচার করেছে, বাড়ি-ঘর বানিয়েছেন আর দেশের মধ্যে সেই টাকা আর আসছে না। এই তো শুরু, দিস ইজ এ বিগেনিং।’

বিদ্যুৎ সংকটসহ দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি না, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সব জায়গাতেই এই সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে। এখন গভর্মেন্ট শর্ষের ফুল দেখবেন, দেখতে হবে। জনগণ ফুঁসে উঠছে, ফুঁসে উঠবে এবং তাদের (সরকার) পতন তরান্বিত হবে।’

বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে জানতে চাইলে চার দলীয় জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত নির্ভর করে পোশাক শিল্পের ওপরে। সেই খাতে যখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদার ঘাটতি হলে সমস্যা তৈরি হবে। পরিবহনে সমস্যা সৃষ্টি হবে। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ অর্থনীতির সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িতে। সেখানে যখন রেশনিং সিস্টেম চালু করা হবে তখন কিন্তু উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট থাকবে।’

‘অর্থনীতিবিদরা যেটা বলছেন, এটা একটা টেম্পোরারি মেজার। এটাকে কাটাতে হলে তাদের (সরকার) স্থায়ী সমধানের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। সেদিকে কিন্তু সরকার যাচ্ছে না। তারা আরও দাম বাড়ালে জনগণ বিগড়ে যাচ্ছে। অলরেডি দাম তো বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু অর্থনীতিতে তীব্র ক্ষতির সৃষ্টি হচ্ছে,’ বলেন ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘আপনি দেখুন, যেসব পাওয়ার প্ল্যান্ট কাজ করছে না, তাদের পয়সা দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে কিন্তু বিরাট অংশ চলে যাচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনেককে ডলারে পে করতে হয়। এই সমস্যাগুলো বলা যেতে পারে সামগ্রিক সমস্যা। এই সমস্যাগুলো সৃষ্টির বিষয়ে আমরা আগেই বলেছি, সরকারের কোনও পরিকল্পনা নেই এবং দুর্নীতি চরম জায়গা পৌঁছেছে। সব জায়গাতে তাদের একটাই লক্ষ্য- দুর্নীতি করা। এটা অস্বীকার করলে তো চলবে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রত্যেকটা ক্ষেত্র আজকে পয়েন্ট অব নো রিটার্ন-এ চলে গেছে। ঠিক একইভাবে শ্রীলঙ্কাতে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আপনারা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৭টা দেশকে ওয়ার্নিং দেওয়া হচ্ছে, যেগুলোতে শ্রীলঙ্কার মতো অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। এটা তো হয়ে যাচ্ছে।’

‘বিদ্যুতে অর্থ লুটের বিচার হবে’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৭৮ হাজার কোটি টাকার তাদের দিতে হয়েছে কোনও বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই। এখন যে বলা হচ্ছে, ৬টা ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকবে, বাকিগুলো কিন্তু পয়সা পেতেই থাকবে। এরাও (ছয়টা) কিন্তু পয়সা পাবে। পত্রিকায় দেখেছি, ১ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা বছরে তাদের জন্য গুনতে হবে। এতে প্রমাণিত, শুধু দুর্নীতি করার জন্য বিশেষ বিশেষ কোম্পানিকে অর্থ বানানোর সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। নিজেরা উপকৃত হওয়ার কারণে এই কাজটা করছে তারা।’

‘বিদ্যুৎ না দিয়ে ওই সব কোম্পানি মালিকদের এভাবে টাকা দেওয়া হচ্ছে, এরা এভাবে টাকা চুরি করেছে। একদিন তাদের এর হিসাব দিতেই হবে। এই হিসাব না দিয়ে তারা যেতে পারবে না। তাদের জনগণের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে,’ বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘শুধু বিদ্যুতের ক্ষেত্রে নয়, প্রতিটা ক্ষেত্রে, প্রতিটা মেগা প্রজক্টে দুর্নীতি করার জন্য তারা (সরকার) জনগণের পকেট কেটে টাকা নিচ্ছে। আজকে যে সংকট তৈরি হয়েছে তার প্রধান কারণ দুর্নীতি।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা বার বার বলেছি, এমন কোনও পরিকল্পনা, এমন কোনও প্রজেক্ট হাতে নেওয়া উচিত নয়, যেটা আমরা চালাতে পারবো না। আমরা এ ধরনের জুতা কেনা উচিত, যা আমি পড়তে পারবো। আমাদের পায়ের মাপের বাইরে জুতা কিনলে তা পরা সম্ভব না। আজকে তাই ঘটছে। এটার মূল্য দিতে হচ্ছে জনগণকে। আমি এর নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এই দুর্নীতির কারণে সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তসূমহ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন মহাসচিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.