কো’ন্দল বাড়ছে তৃণমূল আওয়ামী লীগে

রাজনীতি: আগামী জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। প্রায় দেড় বছর বাকি আছে নির্বাচনের। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ বোরবার (১৭ জুলাই)

থেকে দেশের নিবন্ধিত ৩৯ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে আরও আগে থেকেই তৃণমূলে সম্মেলন করে কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ।

আগামী ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলন করার কথাও আলোচনা হচ্ছে জোরেশোরে। উদ্দেশ্য জাতীয় নির্বাচনের আগে দলকে আরও বেশি সুসংগঠিত করা। দলকে শক্তিশালী এবং সংগঠিত করতে কেন্দ্রীয়

নেতৃত্ব যখন ব্যস্ত সময় পার করছে তৃণমূল তখন ব্যক্তি স্বার্থে কোন্দলে জড়াচ্ছে। যার সর্বশেষ উদাহরণ হলো রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর মধ্যে কোন্দল।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে অবিযোগ করেছেন এই দুই আওয়ামী লীগ নেতা। যদিও অধ্যক্ষ সেলিম রেজা এবং সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী উভয় মারধরের ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন।

এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা ঘটনাটিকে মিথ্যা বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে ওই সংবাদ সম্মেলনে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী দাবি করেন যে, তাকে ঘিরে বার বার চক্রান্ত হয়। আর এর পেছনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ কলকাঠি নাড়েন বলে অভিযোগ করেন তিনি। শুধু তাই নয় আসাদই অধ্যক্ষকে মারধরের অপপ্রচার করেছেন

বলেও অভিযোগ করেন এমপি ফারুক। অন্যদিকে অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে পেটানোর অভিযোগ সত্য বলে দাবি করেছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন যে, অধ্যক্ষ এমপির ভয়ে কথা ঘুরাচ্ছেন। এছাড়া ওই সংবাদ সম্মেলন এমপি ফারুকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেন ধরেন তিনি।

এদিকে গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির বৈঠকে সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এবং ওই উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ পরস্পরকে কিল-ঘুষি মেরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল কোন্দলের চিত্র উঠে আসে।

আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কোন্দলের পেছনে ক্ষমতার লোভ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থকে দায়ী করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দলীয় স্বর্থের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থকে বড় করে দেখছেন। আর একারণে সহজেই একজন আরেকজনের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠছেন। এতে করে প্রাচীন দলটি ক্ষতির মুখে পড়ছে বলেও দাবি তাদের। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে দলকে চড়া মাশুল দিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.