১০-১২ জন বাদ পড়তে পারেন পুরনো থেকে

0
13

নতুন মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন হতে পারে—দুই দিন ধরে আওয়ামী লীগ এমন আলোচনা চলছে। এর মধ্যে বর্তমান মন্ত্রিসভার ১০-১২ জন বাদ পড়তে পারেন এবং নতুন মুখ আসতে পারেন ১০-১২ জন। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

দলীয় সূত্র বলছে, শুরুতে মন্ত্রিসভা পূর্ণাঙ্গ রূপ না–ও পেতে পারে। পরবর্তী সময়ে বা বিভিন্ন পর্যায়ে অনেকের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

পুরোনো মন্ত্রীদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অবসরে যাচ্ছেন, সেটা তিনি আগেই জানিয়েছেন। ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী (মায়া) ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়—একাদশ সংসদ নিরবাচনে দলীয় মনোনয়ন পাননি। চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী মতিউর রহমান, মোস্তাফা জব্বার, ইয়াফেস ওসমান ও নুরুল ইসলাম নির্বাচনের আগ দিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন। বর্তমান মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টির তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী আছেন। এইচ এম এরশাদ গতকাল ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে বসবে, এবার তাঁর দলের কেউ মন্ত্রিত্ব নেবেন না। এই অবস্থায় ১০ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদ এমনিতেই ফাঁকা।

১৪ দলের শরিকদের মধ্য থেকে ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (ইনু) ও জাতীয় পার্টির (জেপি) একজন করে মন্ত্রী এখন আছেন। নতুন মন্ত্রিসভায়ও এই দলগুলো থেকে প্রতিনিধিত্ব থাকবে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে। তবে তাঁদের কারও মন্ত্রণালয় পাল্টাতে পারে আবার কাউকে কাউকে বাদ দিয়ে ওই দলের অন্য নেতাদেরও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।

এবার শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতায় মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলেও আওয়ামী লীগ ও ১৪–দলীয় জোটে আলোচনা আছে।
মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার আশায় আছেন, এমন একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, সবকিছুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্ভর করছে। যে যার যার মতো যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে চেষ্টা–তদবির করছেন। এখন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ফোনের অপেক্ষায় সবাই। রোববার থেকেই ফোন দেওয়া শুরু হবে। প্রথমে বর্তমান মন্ত্রিসভার যেসব জ্যেষ্ঠ সদস্য পুনরায় স্থান পাচ্ছেন, তাঁদের ফোন করা হবে। এরপর নতুনদের ফোন দেওয়া হবে।

আগামী সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের দিনক্ষণ নির্ধারিত আছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেছেন। নেতাদের মধ্যে শোক কাজ করছে। এর মধ্যেই মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন কি না, সেই খোঁজখবরও রাখছেন।

গতকাল সকালে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলীয় সংসদ সদস্যরা ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মন্ত্রিসভা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার কেন যেন মনে হয় বিশাল একটা চমক আসবে ।’ তিনি বলেন, ‘বিশাল বিজয়ের সঙ্গে বিশাল প্রত্যাশা। জনগণেরও এখানে একটা প্রত্যাশা রয়েছে। সেই প্রত্যাশার প্রতিধ্বনি তো করতে পারেন একজনই (শেখ হাসিনা)। কেবিনেটের বিষয়টা সম্পূর্ণ তাঁর (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বিষয়। এটা প্রধানমন্ত্রীর এরিয়া, এখানে অন্য কারও প্রবেশের সুযোগ নেই।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নবীন প্রবীণের সমন্বয়ে আওয়ামী লীগের পথচলা। তবে বিশাল জয়ের সঙ্গে বিশাল চমকও থাকতে পারে।

‘হাসিনা ম্যাজিকে’ বিশাল জয়
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল জয়ের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়, এই নির্বাচনে বিজয়ের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে ‘হাসিনা ম্যাজিক’। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন, তাঁর রাজনীতি, স্বচ্ছতা, সততা, যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রতি জনগণের সমর্থন।

জনরায়কে অসম্মান করা উচিত নয়
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে গতকাল বিএনপির নেতাদের বৈঠকের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠক করলে অসুবিধা কী? বৈঠক তো করতেই পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করলে কি আকাশ ভেঙে পড়বে?’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিতদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পার্টির পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ করেছি, তাদের অনুরোধ করছি, জনগণের রায়কে অসম্মান করা উচিত নয়। জনগণ যে রায় দিয়েছে, যেটুকু রায় দিয়েছে, এটা তাদের সম্মান করা উচিত। না হয় ব্যর্থতার বৃত্তে তাদের আটকে থাকতে হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here