২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম চায় কমপক্ষে দশটি আসন

0
173

২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর নেতা-কর্মীদের আসন বন্টনের বিষয়টি এখনো সুরাহা না হওয়ায় মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বি এনপির কাছ থেকে এখনো স্পষ্ট কিছু না জানানোর কারণেই নেতা-কর্মীদের মধ্যে মতর্পাথক্য দেখা যাচ্ছে।

জানাগেছে, ৫১ টি আসনে দলের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা করে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে র্নিদেশনা দেয়া হয়। গতসপ্তাহে বিএনপি মহাসচিবের কাছে জমিয়ত মহাসচিব আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী দলের পক্ষ থেকে ১৪ আসনের একটি তালিকা হস্তান্তর করেছেন বলে জানাগেছে।

জোট থেকে জমিয়তকে ২/৩ টি আসন দেয়া হচ্ছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হওয়ায় তৃণমুলের নেতা-কর্মীদের অনেকেই সামাজিক সাইটে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ২০ দলীয় জোটের মধ্যে ২য় বৃহত্তম ইসলামী দল। নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক দলের একজন র্শীষ নেতা  জানান, জোটকে ঠিকিয়ে রাখতে দেশের র্শীষ আলেম ও জমিয়ত কর্মীদের সবচাইতে বেশী ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ক্ষমতাসীন সরকারের নানা নির্যাতন ও সহ্যকরেছেন তারা।

সম্প্রতি  প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া কওমী আলেমদের একাংশের সংর্বধনায় তাদের র্শীষ নেতারা বর্জন করেছেন। তাই তারা ১০ আসন ছাড়া কিছুতেই মানবেনা। তন্মধ্যে সিলেট বিভাগে ৩ টি , ময়মনসিংহ বিভাগে ২টি অন্যান্য বিভাগে আরো ৫ টি আসন না দিলে ’ভিন্ন চিন্তার’ হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।তরুণ কযেকজন নেতার সাথে কথা বলে জানাগেছে, নির্বাচনী ব্যাপারে দলের অবস্থান ও জোটের সাথে আসন বন্টনের বিষয়টি চুড়ান্ত করার জন্য দলের সভাপতি আল্লামা আব্দুল মোমিন,সিনিয়র সহসভাপতি আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী, সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা শায়খ জিয়াউদ্দীন,মহাসচিব নূর হোছাইন কাসেমী ও যুগ্মমহাসচিব বাহাউদ্দীন জাকারিয়ার সমন্বয়ে দ্রæত একটি নীতি র্নিধারণী বৈঠকের করে কথা রয়েছে। তৃণমুলের কর্মীরা মুলত মুরুব্বীদের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। বিএনপির সাথে দ্রæত বসে আসন বন্টনের বিষয়টি সুরাহা করার জন্য তাগিদ আসছে জেলা পর্যায় থেকে  বিশেষ করে সিলেটের কর্মীরা এনিয়ে উদ্বিগ্ন ।

১৪ নভেম্বর বুধবার দুপুরে সিলেট জেলা ও মহানগর জমিয়তের উদ্যোগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বর্ধিত সভা আহবান করা হয়। সিলেট মহানগর জমিয়তের সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও জেলা জমিয়তের যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মালিক ক্বাসেমীর পরিচালনায় সভায় নেতারা বলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ২০ দলীয় জোটের অন্যতম একটি শরীক দল। সিলেটে ৬টি সংসদীয় এলাকায় আমাদের বিশাল ভোট রয়েছে। জোটের কাছে আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবী সিলেট-৪ ও ৫ আসন আমাদেরকে ছাড় দিতে হবে। কারণ বিগত স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে আমরা দলীয় প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে যাচাই করেছি আমাদের বিপুল পরিমাণ ভোট রয়েছে।

সিলেট-৪ ও ৫ আসন ক্বওমী মাদ্রাসা ও ধর্মপ্রাণ অধ্যুষিত এলাকা। দুইটি আসনেই জনসাধারন আলেম ওলামাদের পছন্দ করেন। এজন্য সিলেট ৪ আসনে মাওলানা আতাউর রহমান ও সিলেট-৫ আসনে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক কে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত দিনে আমরা জোটের কাছ থেকে আমাদের ন্যায্য অধিকারটুকু পাইনী। এবার তার ব্যতিক্রম হলে সিলেট জেলার ৬টি আসনেই দলীয় প্রতীক খেজুর গাছ নিয়ে দলের অস্তিস্থ রক্ষার জন্য আমরা নির্বাচন করে যাবো। নেতৃবৃন্দ বলেন, অনেকেই লোভ লালসা পেয়ে ২০ দল থেকে বাহির হয়ে গেলেও জমিয়ত তার নীতি ও আদর্শের উপর এখনও অটল। সরকারের সকল অত্যাচার নির্যাতনের পরও আমরা এখনও ২০ দলীয় জোটের সাথে আছি। আমাদের দলের সভাপতি আল্লামা শায়খ আব্দুল মোমিন ও মহাসচিব আল্লামা নুর হোসাইন ক্বাসেমীর নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জমিয়তের সহ সভাপতি মাওলানা আব্দুল মতিন নাদিয়া, মাওলানা আসরারুল হক, আলহাজ্ব সামসুদ্দিন, সহ সাধারন সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম, ছাত্র জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি এম. সাইফুর রহমান, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নুর আহমদ ক্বাসেমী, মহানগর জমিয়তের যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, সহ সাধারন সম্পাদক মাওলানা শফিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সৈয়দ সলিম ক্বাসেমী, গোয়াইনঘাট উপজেলা জমিয়তের সভাপতি মাওলানা আব্দুল আজিজ, জেলা প্রচার সম্পাদক মাওলানা সালেহ আহমদ শাহবাগী, ওসমানীনগর উপজেলা সহ সভাপতি কাজী আমীন উদ্দিন, বিয়ানীবাজার উপজেলা সাধারন সম্পাদক হাফিজ আব্দুল খালিক ক্বাসেমী, জৈন্তাপুর উপজেলা সাধারন সম্পাদক মাওলানা কবির আহমদ, দক্ষিণ সুরমা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আজির উদ্দিন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা তাজ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা জমিয়তের যুগ্ম সম্পাদক হাফিজ আল আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফারুক আহমদ, গোলাপগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাহফুজ আহমদ, কানাইঘাট উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মুফতি এবাদুর রহমান, হেলাল আহমদ, যুব জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতা হাফিজ মাসউদ আযহার, মহানগর যুব জমিয়তের সভাপতি মাওলানা কবির আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আহাদ আল আতিক, মহানগর ছাত্র জমিয়তের সভাপতি মো. লুৎফুর রহমান, জেলা ছাত্র জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ ফয়েজ উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন, হাফিজ আব্দুল করিম দিলদার, মাওলানা আব্দুল কাদির জিলু, মাওলানা ফরহাদ কোরাইশী, যুবনেতা নজরুল ইসলাম, ইমরান হোসাইন চৌধুরী, ইয়াহিয়া হামিদী প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here