ভালোবাসা অন্তহীন

0
376

ভালোবাসা অন্তহীন
লেখা : অাবছার অালীনুর অভি
তাং- ১২ মে ২০১৮
————————————–
সকাল ১০.৩০মিনিটে বাসা থেকে বের হয় হাসান, ট্যাক্সি করে অফিসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়, রাস্তায় এক কলিগ এর সাথে দেখা, এক সাথে অফিসে ঢুকলো, অাজ হাসান কারো সাথে কথা বলছে না, মনে হচ্ছে অাজ খুব চিন্তিত ।
.
অফিসে নিজ অাসন গ্রহন করলো, প্রতিদিনের মতো অাজও করীম চাচা এসে চা দিতে চাইলে হাসান না করে দেয়, করীম চাচা একটু হাসান এর দিকে থাকিয়ে রইলেন, জানতে চাইলেন বাবা তোমায় চিন্তিত মনে হচ্ছে, হাসান খুব শান্ত মেজাজের ছিলো কিন্তু অাজ কি হলো?
করীম চাচাকে বললো প্লিজ চাচা অামায় একা থাকতে দিন, করীম চাচাকে হাসান অফিসের অন্য সবার থেকে একটু বেশি ভালবাসতো ও অফিসের সবাইকে স্যার বলে ডাকলেও হাসান করীম চাচাকে স্যার বলতে দেয়নি কখনো, সে করীম চাচাকে টাকা পয়সা দিয়েও হেল্প করতো তাই করীম চাচা অাবারো জানতে চায় বাবা কি হইছে তোমার, তখন হাসান ধমক দিয়ে বলে তোমাকে বললাম না অামায় একা থাকতে দাও।
করীম চাচা বিস্মিত হয়ে থাকি থাকিয়ে রুম থেকে বাহিরে চলে যায়, ভাবতে থাকে হাসান এর কি হলো হঠাৎ করে।
অাবারো অফিসের একজন একটা ফাইল নিয়ে অাসলে তাকেও ফিরিয়ে দেও হাসান।
.
এদিকে হাসান এর টেবিলে রাখা অনেক ফাইল, অনেক কাজ পিছু দাওয়া করছে, হাসান এর বুকে খামছে ধরে বসে অাছে, অসহ্য ব্যাথা করছে বুকে তার, ব্যাথা শুধু বেরেই চলেছে দিন দিন, বাসায় কাউকে বলেনি।
দুপুর ১২.২০মিনিট হঠাৎ মোবাইলটা বেজে উঠলো মোবাইলের দিকে তাকাতে মন চাচ্ছে না, রিং কেঠে গেলো অাবারো কল এলো মনের অজান্তেই টেবিলে রাখা মোবাইলে চোখ পরলো দেখলো Babuni (মিছেছ হাসান) এর কল, দেখা মাত্রই যেন সে ভাল হয়ে গেলো, এতক্ষণ যে ব্যাথা অনুভব করছিলো তা মিনিটেই শেষ হয়ে গেলো।
ফোন ব্যাক করলো তখন বাবুনী বললো
বাবুনি – কি করো, অফিসে কি কাজ বেশি?
হাসান -না বাবু কাজ নেই, বলো কি বলবে?
বাবুনি -না বলছিলাম অাজতো তোমার Birthday তাই তোমাকে নিয়ে ঘুরতে মন চাচ্ছিলো। <3
হাসান -ওকে বাবু তুমি রেডি হয়ে নেও, অামি অাসছি।
বাবুনি -দেখো অফিসে কাজ বেশি হলে অাসার প্রয়োজন নেই হাসান।
হাসান -অারে বাবা এতকথা বলো কেনো, বললামতো অামি অাসছি তুমি রেডি হও, অার শুন তুমি কাল ড্রেস পরলে ভাল লাগবে, বায়।
.
এই বলে ফোন রেখে দেয় হাসান, অাজ অার অফিস করবে না সে, ইন্টারকম থেকে জেনারেল ম্যানেজার এর কাছে কল করে ছুটি ছেয়ে নিলো, তার কক্ষথেকে বের হয়ে অফিসের নীছে চলে অাসলো, এখান থেকে অাবার সে অফিসে ফিরে গিয়ে করীম চাচার সাথে দেখা করলো অার বললো চাচা অাপনি মনে হয় মাইন্ড করেছেন প্লিজ চাচা কিছু মনে করবেন না, অামার শরীলটা অসুস্থ তাই কিছু ভাল লাগছিলো না, সরি চাচা অাপনি অামার বাবার মতো, প্লিজ কিছু মনে করবেন না, করীম চাচা বললেন নারে বাবা অামি কিছুই মনে করিনি, দাও তোমার ব্যাগটা দাও অামি গাড়িতে দিয়ে অাসি, না চাচা অামি যেতে পারবো, এই বলে বেড়িয়ে পরলো হাসান।
.
বাসায় এসেই দেখলো বাবুনী কালো একটা ড্রেস পরে রেডি হয়ে অাছে, হাসান ব্যাগটি রেখেই বললো চলো বের হই।
বাবুনী : অারে বাবা অফিস থেকে এলে মাত্র একটু ফ্রেস হয়ে নাও, ড্রেস চেঞ্জ করো একটু অাধুনিক হও <3
একটি টি-শার্ট ও পেন্ট দিয়ে বললো চেঞ্জ করে নিতে, হাসান হাতে না নিয়ে ফ্লোরে পেলে দেয় ইচ্ছে করে, অার বলে ওহ সরি, অামি উঠিয়ে নিচ্ছি।
কোন কারন ছারাই বাবুনীর শরীল স্পর্স করতে চাইছে হাসান, বাবুনী তখন একটু হাসি নিয়ে বললো তুমি যাবে চেঞ্জ করতে নাকি? জোর করে তাকে ওয়াসরোমে পাঠায়।
বাহির হলো রেডি হয়ে, বাবুনী তার মনের মানুষকে মনের মতো করে পারফিউম লাগিয়ে রেডি করে নিলো, হাসান বার বার বাবুনীকে স্পর্স করতে চায় (এর চেয়ে অার কার ভালবাসা বেশী হয়ে পারে) এবার বের হেলো তারা দুজন।
রিক্সা করে পার্কে যায়, হে অাজ সব বিল ও রিক্সা ভাড়া সব বাবুনী দেবে বলেছে কারণ অাজ হাসান এর জন্মদিন, সকালেই ১হাজার টাকা ধার নিয়েছে হাসান এর কাছ থেকে (এই টাকা রিটার্ন দেবে না হাসান ও বাবুনী দুজনই জানে)।
.
পার্কের এক নির্জন কোনে অনেকক্ষণ বসার পর একটা চাইনিজ রেস্তোরাতে যায় তারা, বিল অাসলো ১২০০ টাকা অাবারো হাসান এর কাছে ২০০ টাকা ধার চাইলো, নিয়ে বিল দিলো, বের হয়ে হাসানকে বললো অার কোথায় যাবে বলো, হাসান বললো তোমার কাছেতো টাকাই নেই অার কোথায় নিয়ে যাবে এবার হেটে হেটে বাসায় যাই চলো, এই বলে বলে অনেক মজা করলো কিন্তু হাসান এর বুকের ব্যাথাটা এখনো অাছে, বাবুনীর মন খারাপ হবে তাই সে শেয়ার করছে না।
হাটার মধ্যে হাসান এর হাতে ধরে বসে পরে বাবুনী, বলছিলো মাথা ঘুরছে, চোখ অন্ধকার হয়ে অাসছে তাই হাসান সাথে সাথে একটা সিএনজি নিলো, হসপাতালে নিলো ডাক্তার জানিয়ে দিলো বাবুনী মা হতে চলেছে, তা শুনে তারা দুজন খুব খুশি, এবার হাসান এর ভালবাসা যেন অারো বেড়ে গেলো অনেকগুন হয়তো এটা নতুন অতিথির জন্য।
.
কিছুদিন পর……
.
তাদের এক কণ্যা সন্তান জন্ম নেয়, হাসান ও বাবুনির আদরের সন্তান, খুব ভালোবাসে খুব, দিন দিন তাদের সংসার ভালবাসায় ভরে যায়, মেয়েটা এখন বাবা বাবা বলে ডাকতে শিখেছে।
এদিকে হঠাৎ একদিন অফিসে অাবারো হাসান এর বুকের ব্যাথা বেড়ে যায়, হাসান কলিংবেল চাপলো সাথে সাথে করীম চাচা এলেন, হাসান করীম চাচাকে বললো চাচা শরীলটা বেশ ভাল লাগছে না অাপনি কি অামাকে একটু বাসায় দিয়ে অাসতে পারবে প্লিজ চাচা, করীম চাচা বললেন চলো বাবা, এই বলে করীম চাচা হাসান নিয়ে তার বাসায় যায়, বাবুনী কি করবে ভুজতে পারছে না, হাসান বললো অামার মেয়েটা কোথায় ওকে একটু অামার কাছে দাও, মেয়েকে বুকে ঝরিয়ে রাখে, করীম চাচা পাশে বসা, বাবুনী মাথায় পানি দিচ্ছিলো হঠাৎ হাত থেকে পানির মগটা পরে যায়, মেয়েটা খেলা করছে বাবার বুকের উপর বসে, মেয়েটি অবুঝ, কি হতে চলেছে কিছুই বোঝে না সে, মেয়ের দিকে তাকিয়ে অাছে হাসান, কোন নড়াচড়া নেই হাসানের, অবাক চুখে তাকিয়ে অাছেন করীম চাচা, বাবুনী জানতে চায় কি হলো চাচা হাসানের, বাবুনী পাগল হয়ে যচ্ছে বার বার বলছে করীম চাচা বলুন না কি হইছে, হাসান কি হইছে তোমার, হাসান কথা বলছো না কেনো তুমি?
করীম চাচা হাত দিয়ে হাসানের চোখ দুটো বন্ধ করে দিলেন, ভুজার অার বাকি রইলো না বাবু

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here