হঠাৎ তিন পুলিশকে প্রত্যাহার, জানা গেলো আসল কারণ

পুলিশের দাবড়ানি খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে টোকন আলি নামের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ও দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করার পর চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান। ঘটনা তদন্তে পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেককে প্রধান করে এ তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভাংবাড়িয়া গ্রামের মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়ে বসে তাস খেলার সময় স্থানীয় হাটবোয়ালিয়া ফাঁড়ির পুলিশ চারজনকে দাবড়ানি দেয়।

দুজনকে হাতেনাতে আটক করা হলেও অন্য দুজন মাথাভাঙ্গা নদীতে ঝাঁপ দেয়। একজন নদী থেকে সাঁতরে ডাঙায় উঠলেও অন্যজন নদীর স্রোতে ভেসে যান।

আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া গ্রামে বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। টোকন আলি (৩৮) ওই গ্রামের ওদু ছদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন সবজি ব্যবসায়ী।

স্থানীয়দের অভিযোগ গ্রামের নিরীহ চারজন বাঁশবাগানের নিচে বসে তাস খেলছিলেন। পুলিশ টাকা আদায় করার জন্যই তাদের দাবড়ানি দেয়। পুলিশের ভয়ে দুজন পাশের মাথাভাঙ্গা নদীতে ঝাঁপ দেন।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ফেরিঘাটপাড়ার আবদুর রহমানের ছেলে আকছেদ আলী, ইয়াদুল হকের ছেলে কবিরুল ইসলাম, ছুন্নত আলীর ছেলে নাজিম উদ্দিন ও ওদু ছদ্দিনের ছেলে টোকন আলী গ্রামের পার্শ্ববর্তী মাথাভাঙ্গা নদীতীরবর্তী বাঁশবাগানের নিচে বসে তাস খেলছিলেন।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় হাটবোয়ালিয়া ক্যাম্প পুলিশের টুআইসি এএসআই জাহিদুল ইসলাম দুজন কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে ওই চারজনকে ধাওয়া দেন। দুজন নদীতে ঝাঁপ দিলে টোকন পানিতে ডুবে যায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা থেকে আসা ডুবুরি দল উপজেলার আঠারখাদা নামক স্থানের মাথাভাঙ্গা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। সন্ধ্যায় টোকনের মরদেহ গ্রামে দাফন করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে। তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনজন তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গ্রামের কয়েকজন জানান, পরে আটক দুজনের কাছ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ। ঘণ্টাখানেক পরে টোকনকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন নদীর ধারে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.