সাবেক স্ত্রীর হাতে খু-ন হন ‘জীনের বাদশা’ বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

‘জীনের বাদশা’ পরিচয়ে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখায় সাবেক স্ত্রীর হাতে এক ব্যক্তি খু-ন হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআই।

বাচ্চু নামে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়া দ্বিতীয় স্ত্রী আরজু আক্তারকে (২৩) মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তারের পর তিনি হ’ত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশের এই তদন্ত সংস্থা।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানায়, গত ২৯ জুলাই রাত ৮টার দিকে সদরঘাটে থাকা ভোলাগামী গ্রীনলাইন-৩ লঞ্চের একটি কেবিনের খাটের নীচ থেকে বাচ্চুর লাশ উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় কেরানীগঞ্জ থানায় তার প্রথম স্ত্রী সুরমা আক্তার একটি মামলা করলে তদন্তে নামে পিবিআই। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় হয়, বাচ্চু জীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। এক পর্যায়ে তার আরজুর সঙ্গে পরিচয় হয় এবং ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে তারা বিয়ে করেন।

বিয়ের পর প্রতারণার কাজে আরজুকে ব্যবহারের পাশপাশি অন্য নারীদের সঙ্গেও পরকীয়া চালিয়ে আসছিল বাচ্চু। এনিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কলহ শুরু হলে এ বছর এপ্রিল মাসে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

পিবিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আরজু জানতে পারে বাচ্চু জীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন নারীর সাথে সম্পর্ক রেখে প্রতারণা করত। শারীরিক সম্পর্ক রাখত।” এরপর থেকেই বাচ্চুকে উচিত শিক্ষা দিতে সুযোগ খুঁজছিল বলে গ্রেপ্তারের পর পিবিআইকে জানিয়েছে আরজু। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আরজু তাদের বলেছে, বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখার কারণে বাচ্চুকে সে হত্যা করেছে।”

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য তুলে ধরে পিবিআই জানায়, ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলেও তাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক ছিল এবং তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে চলত। গত ২৯ জুলাই বাচ্চু ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি ভোলার ইলশা যাবে বলে জানতে পারে আরজু। তখন তাকেও সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। আরজুর বাড়িও ভোলা।

পিবিআই জানায়, তারা ওইদিন সকালে গ্রীনলাইন-৩ এর একটি কেবিন স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ভাড়া নিয়ে ওঠেন। এই লঞ্চে আগে থেকে সঙ্গে নেওয়া ঘুমের ওষুষ খাইয়ে বাচ্চুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর কেবিনের খাটের নিচে লাশ রেখে ইলশা ঘাটে নেমে যায় আরজু।

দুপুরে লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসার সময় ওই কেবিনটি একটি পরিবারকে ভাড়া দেয় লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। মাঝপথে ওই পরিবার খাটের নিচে একটি লাশ দেখতে পেয়ে লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়।

পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরে ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হলে তার গ্রামের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.