মিসবাহ উদ্দিন হত্যা: আরও বেপরোয়া ডা: রুলি, দিচ্ছেন প্রকাশ্যে হুমকি

সংবাদ: সিলেটের গোলাপগঞ্জের মিছবাহ উদ্দিন হত্যা মামলার এক নাম্বার আসামি ডাক্তার রুলি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে৷

মিছবাহ উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আটকের দাবি যারা জানাচ্ছেন তাদেরকেই প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে রুলি ও তার সঙ্গীরা। এ বিষয়ে বেশ কিছু প্রমাণ (অডিও ও ভিডিও) আমাদের হাতে রয়েছে।

গত ২১ জুলাই সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার রায়গড় উকড়কান্দি গ্রামের আফতাব আলীর পুত্র মিছবাহ উদ্দিন (৪৬) সিলেট সরকারি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান। এ সময় তার শরীরে একাধিক জখমের চিহ্ন দেখা যায়।

এর আগে ১৯ জুলাই সিলেট বন্দর বাজার ফাঁড়ির পুলিশ মিছবাহ উদ্দিনকে আহত অবস্থায় পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরবর্তীতে স্থানীয় মেম্বার আব্দুর রউফ এর মাধ্যমে পরিবারের কাছে খবর দেয় মিছবাহ উদ্দিন হাসপাতালে আছেন৷

জানা গেছে, খবর পেয়ে মিছবাহ উদ্দিনের বাবা সহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজন হাসপাতালে ছুটে গিয়ে দেখতে পারেন হাসপাতালের বেডে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন মিছবাহ উদ্দিন।

এ সময় কিভাবে এ অবস্থা হয়েছে জানতে চাইলে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মিছবাহ উদ্দিন তার বাবাকে বলেন, “আমাকে রুলির গুন্ডারা মেরে শেষ করে দিছে। রুলি বেগম ও তার বর্তমান স্বামী এবং কয়েকজন ভাড়াটে গুন্ডা সাথে নিয়ে রড ও নাট বল্টু খুলার প্লাস দিয়ে মারপিট করে জখম করেছে ও ডাক্তার রুলি (সাবেক স্ত্রী) মিছবাহ উদ্দিনের শরীরে একটি ইঞ্জেকশন পুশ করে।

উল্লেখ্য, “ডাক্তার রুলি হচ্ছে মিছবাহ উদ্দিনের সাবেক স্ত্রী। সাবেক এই স্ত্রীর কাছে মিছবাহ উদ্দিনের এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। জানা যায়, মিছবাহ উদ্দিনকে ছেলে মেয়েদের দেখার সুযোগ দিতনা ডাক্তার রুলি। এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায় ই যায় ঝামেল হয়ে থাকতো।”

এদিকে মিছবাহ উদ্দিনের মৃত্যুর পর তিনির মা বাদী হয়ে মাননীয় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী ২য় আদালত, সিলেট এ গত ৩রা আগস্ট, ডাক্তার রুলি বেগমকে এক ও তার বর্তমান স্বামী দুই এবং এম কে শফি তালুকদারকে তিন নাম্বার আসামি সহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আদালত এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই সিলেট’কে দেন

অন্যদিকে মিসবাহ উদ্দিনের মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ্যে আসতেই এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন সবাই। দেশ বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আটকের দাবি জানাতে থাকেন সচেতন মহল।

মিছবাহ উদ্দিন হত্যার ঘটনায় লন্ডনে প্রতিবাদ সভা এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিন বাজারে দলমত নির্বিশেষে মানববন্ধন করেন সচেতন নাগরিকবৃন্দ। চারদিকে যখন মিসবাহ উদ্দিন হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি উঠে, ঠিক তখন থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে এক নাম্বার আসামী রুলি ও তার বাহিনী।

মিছবাহ উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনে যারা উপস্থিত ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে যারা এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছেন তাদের সবাইকে ফেসবুক সহ অন্যান্য মাধ্যমে হুমকি ধামকি এবং মামলার হুমকিও দিচ্ছে আসামি ডাক্তার রুলি। যার অনেকগুলো প্রমাণ (অডিও ভিডিও এবং স্কিনশট) আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে।

মিছবাহ উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফেসবুকে যারা বিভিন্ন প্রতিবাদ করে পোস্ট করেছিলেন এবং বিভিন্ন পোস্ট নিজের ওয়ালে শেয়ার করেছিলেন তাদেরকে পোস্টগুলো ডিলিট করে দেয়ার জন্য বিভিন্ন রকম হুমকি দেয় ডাক্তার রুলি ও তার বাহিনী। অনেকে মান সম্মানের ভয়ে সেই পোস্ট ডিলিটও করে দিয়েছেন।

এছাড়া আসামি ডাক্তার রুলি একাধিক ফেক আইডি দিয়ে বিভিন্ন সম্মানীজন এবং গুণীজনের ছবি নিয়ে ট্রল করা সহ নানা ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে। যা আসামি রুলি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে স্বীকার করে আমাদের বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে। যার অডিও আমাদের কাছে রয়েছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সহ চতুর রুলির হাত রয়েছে উপর মহলে। তা প্রমাণ করে মানুষকে ভয় ভীতি দেখাতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথোপকথনের স্কিনশর্ট দেখিয়ে যাচ্ছে। যে স্ক্রিনশটগুলো আমাদের হাতে এসেও পৌঁছেছে।

এলাকাবাসী বলেন, আসামী রুলি ও তার পরিবারের সদস্যরা মান সম্মানের তুয়াক্কা করেনা। তারা এক ডজনের মত বোন, কোনদিকে কি করে বসে তাই মান সম্মানের ভয়ে অনেকেই এদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করছেন।

এলাকাবাসী আরও বলেন, আমরা জেনেছি মিছবাহ উদ্দিন হত্যা মামলাটি আদালতের মাধ্যমে তদন্তের জন্য পিবিআইয়ের কাছে দেওয়া হয়েছে। সব রহস্য উদঘাটন করে পিবিআই আসামীদের ধরবে। কারণ, খুন করে কোনদিন কেউ সেটা ধামাচাপা দিয়ে রাখতে পারেনি। সত্য একদিন না একদিন প্রকাশ্যে এসেছেই।

অন্যদিকে মিছবাহ উদ্দিন মারা যাবার আগে তার একমাত্র প্রবাসী ভাই জাবেদ আহমদের কাছে রুলির দ্বারা সংসার করাকালীন এবং পরবর্তী সময়ের নির্যাতন ও রুলীর বিভিন্ন অপকর্মের তথ্য এবং নিজের মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন অডিওর মাধ্যমে। সেই অডিও গুলোর কিছু অংশ প্রমান সরূপ জাবেদ আহমদ সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের আইডিতে তুলে ধরেন। যার প্রতিটি অডিওতে রয়েছে ব্যাপক তথ্য। সাধারন জনগণ মনে করেন, এসব অডিওর সূত্র ধরে সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করলে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা সহজ হবে এবং আসামীরা দ্রুত আইনের আওতায় আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.