থানায় মৃত্যু: পরিবারকে মরদেহ দিতে পুলিশের শর্ত

রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় সুমন শেখ নামে এক আসামি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করছে পুলিশ। শর্ত সাপেক্ষে পুলিশ সুমনের মরদেহ পরিবারকে দিতে চেয়েছে।

তবে পরিবার পুলিশের দেওয়া শর্তে রাজি না হওয়ায় মরদেহ পড়ে রয়েছে মর্গে। আজ রবিবার (২১ আগস্ট) থানায় হেফাজতে মৃত্যু হওয়া রুমনের স্ত্রী জান্নাত আক্তার ও ভাই সুমন জানান,

থানা থেকে ঘটনাটিকে অপমৃত্যু বলা হচ্ছে। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় তারা মামলা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আদালত তাদের মামলা নেননি!

রুমনের স্ত্রী জান্নাত আক্তার জানান, ৯ বছরের ছেলে রাকিবকে নিয়ে তারা হাতিরঝিলে মহানগর প্রজেক্টে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পুলিশ ও আদালত তাদের কোনো সহযোগীতা করছে না।

ছোট থেকে তারা রামপুরায় বড় হয়েছেন। স্বামীর লাশ সেখানে দেবে না- এটা কেমন সিদ্ধান্ত পুলিশের, প্রশ্ন রাখেন তিনি।তিনি আরও বলেন, যে কারণেই আমার স্বামীকে গ্রেফতার করুক,

পুলিশ তো নিরাপত্তা দেবে। অথচ, তাদের উপস্থিতিতে থানার ভেতরে রুমনের মৃত্যু হলো। নির্যাতনের ভয়ে হোক আর যেকোনো কারণে; হাজতের ভেতরে রুমনের মৃত্যু হয়েছে। এর দায় পুলিশকেই নিতে হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক এ ব্যাপারে বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া আর কোনো আইনি প্রক্রিয়া বাকি নেই।

প্রসঙ্গত, গতকাল (২০ আগস্ট) থানা হাজত থেকে সুমনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। লাশ বুঝে পেতে পরিবার আজ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে গিয়েছিল। কিন্তু তারা পুলিশি শর্তের কারণে লাশ বুঝে পায়নি বলে জানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.