জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

জামালপুর সদর উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ কয়েক’ শ কৃষক। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার নান্দিনা বাজার এলাকায় জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।

এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এসে আশ্বাস দিলে সড়ক ছেড়ে দেন তারা।

কৃষকদের অভিযোগ, রোপা আমনের খেতে সার দেওয়ার সময় চলে যাচ্ছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী তারা সার পাচ্ছেন না। সোমবার সকালে স্থানীয় ডিলারের কৃষকদের সার দেওয়ার কথা ছিল।

এ জন্য সকাল সাতটা থেকে নান্দিনা বাজারে বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা জড়ো হন। ৯টা বেজে গেলেও গুদাম না খোলায় কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে ইউএনও তালিকা করে কৃষকদের সার দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

অন্যদিকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সারের কোনো সংকট নেই। কিন্তু কৃষকরা সার পাবেন না বা অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হবে—এমন শঙ্কায় বিক্রির খবর পেয়েই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন তারা। এ কারণেই সেখানে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে।

যে গুদাম ঘিরে বিক্ষোভ হয়েছে, তার স্বত্বাধিকারীর ভাষ্য, যে পরিমাণ সার তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন তার অর্ধেক গুদামে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু গুদামের সামনে কয়েক গুণ কৃষক জড়ো হন। সে কারণে তিনি আরও বিশৃঙ্খলার শঙ্কায় গুদাম খোলেননি।

ঘোড়ারকান্দা এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খেতের মধ্যে ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আট দিন ধরে বহু দোকানে গিয়েছি। সব দোকানদার বলে, সার নেই।

সিরাজুল ইসলাম নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘কৃষকদের সঙ্গে সরকার মশকরা করছে। সরকার বলছে, সারের কোনো অভাব নেই। যদি অভাব নাই-ই থাকে, তাহলে আমরা কেন সার পাচ্ছি না। সারের জন্য আমাদের ডিলারদের কাছে ধরনা দিতে হচ্ছে, দোকানে দোকানে ঘুরতে হচ্ছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা ইয়াছমিন বলেন, উপজেলার ৩১ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে। এসব জমির জন্য ৯২৮ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ডিলাররা অর্ধেক সার উত্তোলন করেছেন। সারের কোনো সংকট নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.