ছাত্রী হোস্টেলে মাঝের কক্ষে থাকেন সহকারী অধ্যাপক, অতঃপর

বাগেরহাটের শরণখোলা সরকারি কলেজের ছাত্রী নিবাস দখলমুক্ত করার দাবিতে ধর্মঘটের প্রথম দিন ক্লাস বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে মিছিল ও সমাবেশ করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান তারা।

শিক্ষকের কবল থেকে ছাত্রীনিবাস দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজের ছাত্রীনিবাসের মাঝখানের একটি কক্ষে ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাব্বির আহম্মেদ মুক্তা বসবাস করছেন।

এ কারণে আবাসিক ছাত্রীদের নানা বিষয়ে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ছাত্রীদের পাশপাশি কক্ষে একজন পুরুষ শিক্ষক থাকায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ওই শিক্ষক বাসা না ছাড়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জন চলবে এবং পরবর্তীতে আরো কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে। এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী নাজমুন নাহার শান্তা,

সোনিয়া আক্তার, দীপা রানী ও আকরামুল হোসেন জসিম জানান, ছাত্রীনিবাসের মধ্যে একজন শিক্ষক কিভাবে সববাস করেন সেটা আমাদের বোধগম্য নয়

এত বলার পরেও তিনি যেহেতু বাসা ছাড়ছেন না তাই আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাসবর্জন কর্মসুচি দিতে বাধ্য হয়েছি। শিক্ষার্থীদের যৌাক্তিক দাবি ও আন্দোলন কর্মসূচীর সাথে একত্মতা প্রকাশ করেছেন উপজেলা ও কলেজ শাখার ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা

কলেজ শিক্ষক আকন আলমগীর ও গোলাম গোমস্তফা মধু বলেন, মেয়েদের হোস্টেলের মধ্যে একজন শিক্ষক বসবাস করায় আবাসিক ছাত্রীরা বিব্রত। ওই শিক্ষককে কলেজ প্রশাসন থেকে একাধিকবার বাসা ছাড়ার জন্য নোটিশ দিলেও তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। যার ফলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে।

এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল আলম ফকির বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ওই শিক্ষককে একাধিকবার মৌখিকভাবে বলার পরেও বাসা না ছাড়ায় নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ছাত্রীনিবাস ছাড়েন নি। এটি শিক্ষকদের জন্যও অসম্মানজনক। শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের আগেই তার বাসা ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক সাব্বির আহম্মেদ মুক্তা বলেন, অভ্যন্তরীণ কিছু ঝামেলার কারণে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমার বাড়ির ভবনের কাজ শেষ হলে এমনিতেই বাসা ছেড়ে দেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.