পররাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলতে চান, যেন জনগণের কাছে পরিষ্কার করেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের ব্যাখ্যা জনগণের কাছে পরিষ্কার করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

এ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, এটা ওনাকে (পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে) জিজ্ঞাসা করেন। উনি কী বলতে চান, সেটি যেন জনগণের কাছে পরিষ্কার করেন।

রোববার (২১ আগস্ট) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নিবন্ধন অধিদপ্তরে জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতার শাহাদাতবার্ষিকীর দোয়া ও আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমী উদযাপন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করার বিষয়টি জানিয়ে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপরই মন্ত্রীর এ বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের প্রতিক্রিয়া টেনে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সড়কমন্ত্রীর কথা (পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে) আপনারা শুনেছেন।

আমাদের পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি বলেছেন, এটা (পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য) আমাদের দলের বা সরকারের কথা নয়। এটা হয়তো উনার ব্যক্তিগত মতামত।

সেক্ষেত্রে আমি সবসময় বলে থাকি, গুরুত্বপূর্ণ আসনে থেকে অনেক সতর্কভাবে কথা বলা উচিত। এটা তো আমি বুঝি। আমি দলের সেক্রেটারির কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলবো- এটা উনার ব্যক্তিগত মতামত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরও বলেন, আমার মনে হয় উনাকে (পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে) জিজ্ঞাসা করেন। পত্রিকায় দেখিছি, ওনার বক্তব্যের অডিও ক্লিপও আছে। উনি যদি এটা (ক্ষমতায় থাকতে ভারতের সহযোগিতার কথা) বলে থাকেন, তাহলে এ কথার মাধ্যমে কী বোঝাতে চেয়েছেন, এটা জনগণের কাছে পরিষ্কার হওয়া দরকার। উনার এই ব্যাখ্যাটুকু জনগণকে জানানো উচিত।

মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে মন্ত্রিপরিষদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছু বলার আগে কি না, এমন প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, আমি তো অবশ্যই আমার সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা না করে কিছু বলি না। কেউ যদি সেটা করেন তবে সেটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য হতে পারে। কোনোভাবেই সেটি দল বা সরকারের কথা হয় না। আর তিনি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) তো আমাদের সঙ্গে আলাপ করে এ বক্তব্য দেননি।

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে শপথ ভঙ্গ হয়েছে অভিযোগ করে তার পদত্যাগ চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠান এরশাদ হোসেন নামের ওই আইনজীবী।

এ নিয়ে আইনমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিদের বলেন, শোনেন, আমি দেশের আইনমন্ত্রী। যদি উনাকে (পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে) লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোই হয়ে থাকে (হি হ্যাজে রাইট টু রিপ্লাই) আমি আজকে বক্তব্য দিয়ে কোনো পক্ষইকেই বুঝাতো চাই না যে আমি একটা ওপিনিয়ন দিয়েছি।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে যা যা করা দরকার, তা করতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছি। আমি ভারতবর্ষে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাকে টিকিয়ে রাখতে পারলে আমাদের দেশ উন্নয়নের দিকে যাবে এবং সত্যিকারের সাম্প্রদায়িকতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক একটা দেশ হবে। শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা করতে অনুরোধ করেছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে এরইমধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদলগুলো মন্ত্রীর এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে এর নিন্দাও জানাচ্ছে।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর এক অনুষ্ঠানে আপনি বলেছেন, ভারতের কাছে আপনি অনুরোধ করেছেন, যেকোনো মূল্যে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা দরকার। আপনার এ বক্তব্যের মাধ্যমে আপনি আপনার শপথ ভঙ্গ করেছেন। আপনি সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছেন; দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত করেছেন। এ অবস্থায় নোটিশ প্রাপ্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপনার পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.