একদিনে হামলার শিকার বিএনপির কেন্দ্রীয় ৫ নেতা

কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে অতর্কিত হামলার মুখে পড়েছে বিএনপি। এতে কেন্দ্রীয় পাঁচজন নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানী ও কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে পৃথক এই হামলা হয়।

হামলায় আহতরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও উত্তর বিএনপির সদস্য তাবিথ আউয়াল।

এরমধ্যে শনিবার বিকেলে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসার বাজারে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর

ওপর অতর্কিত হামলা হয়। ওই ঘটনায় তার স্ত্রী শামীমা বরকত লাকিসহ বেগমগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মহিউদ্দিন রাজুও গুরুতর আহত হয়েছেন।

এছাড়া একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর বনানীতে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধিসহ পুলিশের গুলিতে ভোলা ও নারায়ণগঞ্জে তিনজন নিহতের প্রতিবাদে মোমবাতি জ্বালিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় অতর্কিত হামলায় কেন্দ্রীয় চার নেতা আহত হয়েছেন

আহতদের মধ্যে স্ত্রীসহ বরকত উল্লাহ বুলুকে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরপর সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তারা ঢাকার পথে রওয়ানা হয়েছেন।

এদিকে, বনানীর হামলায় আহত তাবিথ আউয়ালকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে। আর সেলিমা রহমান ও মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ শামা ওবায়েদকে পার্শ্ববর্তী ফার্মেসি থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে শনিবার সন্ধ্যায় বনানীতে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ছাড়াও পুলিশের গুলিতে দলের তিন কর্মী নিহতের প্রতিবাদে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি শুরু হয়।

ঢাকা উত্তর সিটির বনানীর কাকলী থেকে গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা অবধি এই কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। তবে এর এক ঘণ্টারও বেশি সময় আগেই রাস্তায় জড়ো হন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

একপর্যায়ে সন্ধ্যার পর বনানীর কাকলী মোড়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাংলাদেশ ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্সের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল করতে দেখা যায়। সেখানে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এম এ কাদের খান, বনানী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন ও বনানী থানা কমিটির সাবেক সভাপতি মো. মাসুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে বনানী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় কাউন্সিলর মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে আরেকটি মিছিল বনানী কাঁচাবাজারের পাশে কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউতে অবস্থান নেয়।

বিষয়টি খোলাসা করে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, সন্ধ্যায় বনানীর শেরাটনের সামনে বিএনপির মৌন অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। ওই সময় কাকলী মোড়ের কাছে অবস্থান নেয় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এরমধ্যে মৌন কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে বিএনপির কর্মসূচির পাশ দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল নিয়ে যায়। পরে বিএনপির পক্ষ থেকে দ্রুত মৌন কর্মসূচি শেষ করার পর রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে কর্মসূচি শেষ হতেই অপেক্ষারত একদল তরুণ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়।

এদিকে, নিজ এলাকা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে শনিবার বিকেলে সোনাইমুড়ি ও কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত বিপুলাসার বাজারে নামেন বরকত উল্লাহ বুলু। সেখানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে চা খাওয়ার সময় ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। ওই হামলার সময় বরকত উল্লাহ বুলুর সঙ্গে তার স্ত্রী শামীমা বরকত লাকিও ছিলেন। অতর্কিত ওই হামলায় তারা দুজনই আহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে বেগমগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মহিউদ্দিন রাজুও গুরুতর আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে নাথেরপেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাওহার ইকবাল ঢাকা মেইলকে জানিয়েছেন, হামলার খবরে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে বরকত উল্লাহ বুলুর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন- হঠাৎ করে মোটরসাইকেলে করে দুই-তিনজন লোক এসে হামলা করেছে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পেলে- প্রকৃতপক্ষে কারা এই হামলা করেছে তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

অন্যদিকে, বনানীর হামলার ঘটনায় আহত কেন্দ্রীয় চার নেতাকে দেখতে রাতেই রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ইচ্ছাকৃতভাবে-উদ্দেশ্যমূলকভাবে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য, বানচাল করার জন্য, তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে। সমগ্র দেশে তারা একটি ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেখানে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

একই সময় হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব।

উল্লেখ্য, গত আগস্টে ভোলায় পুলিশের গুলিতে বিএনপির দুজন নেতাকর্মী নিহত হন। এরপর ২২ আগস্ট থেকে টানা কর্মসূচি শুরু করে দলটি। এরমধ্যে ১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে একজন কর্মী নিহত হওয়ার পর ঢাকার ১৬টি জায়গায় ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি।
সুত্রঃ ঢাকা মেইল

Leave a Reply

Your email address will not be published.