সাজা স্থগিতে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য যে দুই শর্ত

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ শর্তসাপেক্ষে ছয় মাস বাড়িয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রবিবার ষষ্ঠবারের মতো তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধি করে সরকার। এখন আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি বাকি রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, দুইটি শর্তে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। এর একটি শর্ত হচ্ছে- এই সময়ে খালেদা

জিয়াকে ঢাকায় নিজের বাসায় থাকতে হবে। বাসায় থেকে তিনি চিকিৎসা নিতে পারবেন। অপর শর্ত হচ্ছে, এই সময়ে খালেদা জিয়া দেশের বাইরে অর্থাৎ বিদেশ যেতে পারবেন না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠবারের মতো বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে তার পরিবার। ওইদিন বিকাল ৪টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ আবেদন জমা দেওয়া হয়।

এরপর তা পাঠানো হয় আইনমন্ত্রণালয়ে। আইন অনুযায়ী এ ধরণের আবেদনে আইনমন্ত্রীর মতামত নিতে হয়। দুদিন আগে ১৬ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী আসিনুল হক সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মতি দেন।

এরপর আইনমন্ত্রণালয় আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠায়। এরপর ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ এবং এই সময় বিদেশে গমন না করার

শর্তে বেগম খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধিতে রাজি হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। দ্রুতই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এর আগেও এক্ শর্তে তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

৭৭ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বর্তমানে গুলশানে তার ভাড়া বাসা ‘ফিরোজায়’ রয়েছেন। তিনি আর্থ্রাইটিসের ব্যথা, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হলে কারাগারে রাখা হয় খালেদা জিয়াকে। এরপর ৩০ অক্টোবর এ মামলায় আপিলে তার আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে হাইকোর্ট।

একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

করোনা মহামারি চলাকালে সরকারের নির্বাহী আদেশে দুর্নীতির দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ মুক্তি দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.