নতুন বিএনপি গঠনের খবর উড়িয়ে দিলেন কর্নেল অলি

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আবদুর রহমান একাধিক সভায় বলেছেন বিএনপির সাবেক দুই নেতা একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি. চৌধুরী) ও কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নেতৃত্বে

নতুন বিএনপি হচ্ছে- এমন খবরকে উড়িয়ে দিয়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)‘র প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব:) ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, বিগত ১৩ বছরেও বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সাথে আমার দেখা হয়নি,

এমনকি টেলিফোনেও আলাপ হয়নি। তার সাথে আমাকে জড়িয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহমানের এমন বক্তব্য মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং দূরভিসন্ধিমূলক। এ ধরনের বক্তব্য আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতার কাছ থেকে আশা করি নাই।

শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন কর্নেল (অব:) ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম। ড. অলি আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগের দিন শেষ হয়ে আসছে বলে এখন তাদের শত শত কর্মী আমেরিকায় পালিয়েছে এবং তারা সেখানে বৈধ হতে এলডিপির সদস্যপদ নেওয়ার জন্য সার্টিফিকেট নিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে।

তারা প্রতিনিয়ত এলডিপিতে যোগদান করার জন্য বিভিন্নভাবে তদবির চালাচ্ছে। কিছুদিনপর আবদুর রহমানের অবস্থাও অনুরূপ হতে পারে। যে কারণে এখন থেকেই পাগলামো শুরু করেছেন তিনি।

যদি বিপদে পড়ে আবদুর রহমানকেও আমরা এলডিপির সদস্যপদ দেবো। কারও ক্ষতি হোক সেটা আমি চাইনা। সম্প্রতি এলডিপি সম্পর্কে তার বক্তব্য মিথ্যা। মিথ্য বলা মহাপাপ, মিথ্যাবাদীদের আমি ঘৃণা করি।

ড. অলি আহমেদ আরও বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানলাম ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। বিগত ৭/৮ বছরে নূন্যতমপক্ষে ৫ লাখ হাজার কোটি টাকা আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায় থেকে নিম্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পাচার করেছে।

দেশ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ে তারা নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য আয়েশি জীবন যাপনের ব্যবস্থা করেছে। দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার তাদের নামও প্রকাশ করছেনা। বিগত ১৩বছর দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি তারা। এই কারণে দেশে ডলারের সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। আনুপাতিকহারে জ্বালানি তেলসহ সবকিছুর মূল্য ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এলডিপি যখনই এসব বিষয়ে কথা বলছে তখনই এলডিপিকে বিতর্ক করার জন্যই আওয়ামী লীগ নেতা এসব উদ্ভট কথা বলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় কিছু কিছু দুস্কৃতিকারী দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ে বিদেশে পলায়নের জন্য পাঁয়তারা করছে। এছাড়া দেশের মধ্যে এক শ্রেণির কর্মকর্তা কর্মচারি দেশের বিভিন্ন শহরে নিজ নামে ও স্ত্রী সন্তানের নামে ফ্ল্যাট, বাড়ি, জায়গা-জমি, বাণিজ্য পরিচালনা করছে।

ড. অলি আহমেদ আরও বলেন, সরকারের দূর্নীতিবাজ এসব কর্মকর্তারা কর্মচারী লীগ হিসেবে আওয়ামী লীগের সমর্থন করছে। ২০১৮ সালে নির্বাচনে তাদের নিজস্ব তত্বাবধানে ব্যালট পেপার কেটে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। অবৈধভাবে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য প্রত্যক্ষভাবে অবৈধকাজে অংশগ্রহণ করেছ। বিরোধীদলের প্রার্থী এবং নেতাকর্মীদেরকে ঘরে থাকতে দেয় নাই। ঘর থেকে বের হতে দেয় নাই। এদর তালিকা প্রস্তুত করার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিনিয়ত হাতেগোনা কয়েকজন তাদের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করছে। জনগণ আজ অতিষ্ঠ, দূর্বিসহ জনজীবন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকার যৌক্তিকতা বা অধিকার রাখেনা।

ড. অলি আহমেদ বলেন, আমার পরামর্শ যতদ্রুত সম্ভব মধ্যবর্তী সরকার গঠন করে রাজনীতির মাঠ থেকে আওয়ামী লীগ সরকারকে দ্রুত পলায়ন করতে হবে, অন্যথায় স্বাভাবিক গতিতে আল্লাহর হাত থেকে মুক্তি পাবেনা। দূর্নীতির ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক স্পষ্ঠভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু অবৈধভাবে টাকা উপার্জনকারীরা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করেনা।

মধ্যবর্তী সরকার গঠন করা এই মূহূর্তে সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সদস্যদের দিয়ে গঠন নয়, বরং ন্যায় নিষ্ঠাবান, সৎ শিক্ষিত দেশ প্রেমিক এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে মধ্যবর্তী সরকার গঠন করা সম্ভব।

নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের যে দাবিতে আন্দোলন করে আসছে বিএনপি তাদের সাথে এলডিপি একমত কিনা জানতে চাইলে ড. অলি আহমেদ বলেন, বিএনপির সকল দাবির সাথে আমরা একমত। এ ব্যাপারে গত চারমাসে বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদের উপস্থিতিতে আমার বাসায় দুইবার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে এ সরকার ক্ষমতাচ্যুত না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ঐক্যমত পোষণ করেছি। বিএনপির সাথে আমাদের বিরোধ নাই। আমরা আমাদের মত করেই কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছি। লক্ষ্য একটাই এ সরকারের পদত্যাগ, অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা, অবৈধ সংসদ বিলুপ্ত, দূর্নীতিবাজদের গ্রেফতার ও গণতন্ত্র পুণ:প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের লক্ষ্য হল জনগণের মাঝে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে নিয়ে আসা। সকলের জন্য ন্যায় বিচার, সুশাসন নিশ্চিত করা। জাতি ধর্ম দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দেশকে একদলীয় বাকশালী শাসন থেকে মুক্ত করা।

শেষ পর্যন্ত বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে কি আপনারা অংশগ্রহণ করবেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে আমাদের অলোচনা হয়েছে। বিএনপি নিশ্চয়তা প্রদান করেছে নিশিরাতের ভোটে অবৈধভাবে নির্বাচিত সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এলডিপিও তাদের সঙ্গে ঐক্যমত পোষণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১৩ বছরে ক্ষমতায় থাকার জন্য একতরফাভাবে ভারতকে দিয়ে এসেছে। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারতকে অনেকগুলো জিনিস দিয়েছে। যার ফলে, দেশ ও দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারতের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাংলাদেশের মানুষের বুকের ওপর দিয়ে বেনাপোল, আরিচা, ঢাকা ও সিলেট হয়ে আসামে করিডোর নিয়ে যাওয়া। ভারত এখনও বাংলাদেশের সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য কোন পদক্ষেপ নেয় নাই। বরং দুইদিন আগে চাউল রপ্তানির উপর ২০ শতাংশ সারচার্জ ঘোষণা করেছে। ফলে বাংলাদেশের পক্ষে ভারত থেকে চাউল আমাদানী করা সম্ভব নাও হতে পারে। এইগুলি বন্ধুত্বের লক্ষণ নয়। একতরফা বন্ধুত্ব বেশিদিন টিকেনা। শুধু নেবে আর কিছুই দেবে না এটা হয়না। এছাড়াও আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুতের আমদানির যে চুক্তি হয়েছ তা দেশের জন্য ভয়ংকর ক্ষতিকারক।
বর্তমান সফরে যেসব সমঝোতা স্বারক হয়েছে তার জন্য একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী বিশাল বহর নিয়ে ভারত যাওয়ার কোন প্রয়োজন ছিলনা। সবকিছু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ভারতে এই সফরে প্রাপ্তি শুন্য। বরং নতুনভাবে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে।

পরারাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি একজন দেশদ্রোহী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী নন বলেই তারপক্ষে এ ধরনের বক্তব্য রাখা সম্ভব হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.