চাচিকে বিয়ে করা সেই আ.লীগ নেতার স্ত্রী এবার যা জানালেন

টাঙ্গাইলের সখীপুরে চাচিকে বিয়ে করা বহুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম বিচার চেয়েছেন তার স্ত্রী ইজা আক্তার।

শরীফুলের স্ত্রী ইজা আক্তার মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সাংবাদিকদের বলেন, শরীফুলের চাচির সঙ্গে প্রেম ছিল অনেক আগে। বিয়ে ও দুটি সন্তান হওয়ার পর জানতে পারি তাদের পরকীয়ার বিষয়টি।

এখন তিনি তাদের বিচার চেয়ে বলেন, একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হয়ে এমন কাজ করে আমার সুখের সংসারে আগুন জ্বেলে দিয়েছেন। দুই অবুঝ সন্তান নিয়ে নিদারুণ কষ্টে আছেন জানিয়ে তিনি শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে ওই শিক্ষিকার চাকরিচ্যুত চান। শরীফুল ইসলাম বলেন, সব কিছু সঠিকভাবেই হয়েছে। আমি দুজন স্ত্রী নিয়েই সংসার করতে চাই।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালে উপজেলার কালিদাস পানাউল্লাহপাড়া গ্রামের রাইজ উদ্দিনের ছেলে ইমান আলীর সঙ্গে নলুয়া মোল্লাপাড়া গ্রামের আমির মোল্লার মেয়ে স্কুলশিক্ষিকা রহিমা আক্তার রুমির বিয়ে হয়।

তাদের ঘরে এক ছেলে (১৪) ও এক মেয়ে (১১) সন্তান রয়েছে। বিয়ের কয়েক বছর পরই ভাসুর আবদুস ছবুরের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল ইসলামের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন রহিমা। এ কারণে তাদের মাঝে দূরত্ব তৈরি হয়।

একপর্যায়ে বিষয়টি সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে শরিফুলকে এ পথ থেকে ফেরাতে তার পরিবার ২০১৭ সালে বাসাইলের ময়থা গ্রামে বিয়ে করান। এতেও শরিফুল আর রহিমা সম্পর্ক চলমান রাখেন। অবশেষে ২০১৯ সালে চাচিকে দিয়ে চাচাকে ডিভোর্স করান শরিফুল। শরিফুলের ঘরেও ৪ ও ১ বছরের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।

এদিকে ভাতিজা কর্তৃক চাচিকে বিয়ে করার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকা ও ইউনিয়নবাসীর মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট চাচিকে বিয়ে করার অভিযোগে বহুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনও করেন এলাকাবাসী।

রহিমার আগের স্বামী ইমান আলী বলেন, শরিফ আমার ভাতিজা হয়ে আমার সুখের সংসার জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। রহিমা আমার নামে হয়রানি করার জন্য একাধিক মামলা করে দুইবার জেল খাটিয়েছে।

আদালতের নির্দেশে এখন প্রতি মাসে ৪ হাজার ৬শ টাকা সন্তান দুটোর খরচ দিচ্ছি। প্রাপ্তবয়স হলে আদালতের মাধ্যমে দুই সন্তান আমাকে দিয়ে দেবেন। আমি ওই লম্পটের বিচার চাই। আল্লাহ যেন তার উপযুক্ত শাস্তি দেন।

অন্যদিকে দলের ওই নেতার এমন ঘটনায় উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও বিষয়টি নিয়ে বিব্রত ও অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.