আমরা বাংলাদেশের জনগণের শক্তিতে বলীয়ান, ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু

আওয়ামী লীগ কোনও বিদেশি শক্তির শক্তিতে বলীয়ান নয় উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন,

‘আমরা বাংলাদেশের জনগণের শক্তিতে বলীয়ান। বিদেশের সব রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক। ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। তাদের সঙ্গেও আমাদের সুসম্পর্ক আছে।’

এ দেশে গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক শক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অগণতান্ত্রিকভাবে বন্দুকের নল থেকে যারা বের হয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে, তাদের সঙ্গে গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক বিশ্বের সম্পর্ক থাকতে পারে না।’

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড; পঁচাত্তর পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ এ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা কারবালার প্রান্তরের মর্মান্তিক কাহিনি জানি।

কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইনকে হ’ত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু কারবালার প্রান্তরে নারী ও শিশুদের হ’ত্যা করা হয়নি, তাদের সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

অথচ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নারী ও শিশুদের হ’ত্যা করা হয়েছে। ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল, চার বছরের সুকান্ত বাবু, ১১ বছরের বেবি সেরনিয়াবাতকে হ’ত্যা করা হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা বেগম আরজু মনিকে হ’ত্যা করা হয়েছে।

সেদিন প্রকৃতপক্ষে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল। ইতিহাসের পাতায় জিয়াউর রহমান একজন খু’নি, বিশ্বাসঘাতক এবং সিরিয়াল কিলার হিসেবে স্থান পাবে।

কারণ, বঙ্গবন্ধুর হ’ত্যাকাণ্ডের খবর সকালবেলা যখন তার কাছে পৌঁছানো হয়, তখন তিনি বলেন, ‘সো হোয়াট ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার।’

একজন সেনাপতি নিজের জীবনকে বিপন্ন করে হলেও রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রপতিকে রক্ষা করার শপথ নেন। তখন তার দায়িত্ব ছিল ছুটে গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে রক্ষা করা, তা করেননি তিনি।’

সকালবেলা নাশতা করতে করতে জিয়াউর রহমান ফাঁসির আদেশে স্বাক্ষর করতেন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কুশীলব। শুধু তা নয়, নিজের ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্য হাজার হাজার সেনাবাহিনীর অফিসারকে হত্যা করেছেন। কাউকে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে, অনেককে ট্রায়াল ছাড়া। অনেক সেনাবাহিনীর অফিসারকে ঘুম থেকে তুলে বলা হয়েছে চলুন। কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন জিজ্ঞেস করলে বলা হতো, আপনাকে ফাঁসি দেওয়া হবে। কিন্তু কোনও বিচার হলো না, কেন ফাঁসি দেওয়া হবে এমন প্রশ্নের কোনও উত্তর মেলেনি আজও।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে বঙ্গবন্ধুর হ’ত্যাকাণ্ডের পটভূমি রচনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। বাসন্তি একটা পাগল মেয়ে, তার গায়ে জাল পরিয়ে সেই ছবি ছাপিয়ে মানুষ কাপড় পরতে পারছে না—এই সংবাদ পরিবেশন করা হয়। অথচ জালের দামের চেয়ে একটা শাড়ির দাম কম। এখনও ২০০ টাকায় শাড়ি পাওয়া যায়, এক হাজারের কমে জাল পাওয়া যায় না।’

বিএনপি নেতা রিজভী বক্তব্য রেখেছেন আওয়ামী লীগকে নাকি বিদেশি শক্তি টিকিয়ে রেখেছেন—এ প্রসঙ্গে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শক্তি জনগণ, জনগণের শক্তিতেই আমরা বলীয়ান। তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর নয়াপল্টন আর প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি যেভাবে লাফালাফি শুরু করলো। বর্ষাকালে যখন প্রথম বৃষ্টি হয়, পুকুরে পুঁটি ও মলা মাছ খুব লাফায়, বর্ষায় যখন চারদিকে পানি থাকে তখন ব্যাঙ খুব ডাকে, নানা ধরনের ডাক দেয়। বিএনপির হাঁকডাক ঠিক তেমনই। তারা নাকি সরকারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবে। আওয়ামী লীগের ভিত অনেক গভীরে। শক্ত দেয়ালের মধ্যে কেউ ধাক্কা দিলে নিজেই পেছনে পড়ে যায়। বিএনপির অবস্থাও তাই। বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় সারা দেশের পাঁচশ জায়গায় বোমা ফাটানোর প্রতিবাদে ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী আমরা বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিলাম। ওটি বিক্ষোভ ছিল ট্রায়াল মাত্র। বুধবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের যে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে, তা দেখে আমার মনে হলো ট্রায়াল দেখেই ভয় পেয়ে গেছে তারা।’

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালামের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পালিতের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আতাউর রহমান, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন, আবুল কালাম আজাদ, এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, মহিউদ্দিন আহমেদ রাশেদ ও স্বজন কুমার তালুকদার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.