ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা ৪ ফুটবল তারকা!

জিকো: জিকো কোন বিশ্বকাপ না জিতেও সেরা খেলোয়াড়দের একজন। তাদের ইতালির সাথে ২-৩ট ম্যাচের হার এখনো অনেকের জন্যই গবেষণার বিষয়, যেখানে ভিন্ন স্টাইলের দুই দলের প্রাণপণ লড়াই ছিল। জিকো একইসাথে একজন অসাধারণ ড্রিবলার, একজন ভালো পাসদাতা, সেই সাথে দ্রুতগতিতে গোল করতে পারতেন। ক্লাব ক্যারিয়ারে ৬৯৯ টি ম্যাচে ৪৭৬ টি গোল করেছিলেন তিনি। তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সিতে ৭১ ম্যাচে ৭৪ টি গোল করেন। সেই সময়ের একজন আদর্শ স্ট্রাইকার ও আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসাবে ১০ নাম্বার জার্সিটা তার ছিল। ১৯৮১ সালে ইন্টারন্যাশনাল কাপ ফাইনালে লিভারপুল দলের সাথে ফ্লামিঙ্গোর ম্যাচে তার চমৎকার খেলা সর্বপ্রথম সবার নজরে আসে। জিকোর প্রচেষ্টায় সেই ম্যাচে ফ্লামিঙ্গো ৩-০ তে জিতে নেয় এবং বিশ্বসেরা প্লেয়ার হিসাবে তিনি প্রতিষ্ঠিত হোন৷

রোনালদো: রোনালদোকে ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্ট্রাইকার বলা হয়ে থাকে। তিনি ব্রাজিল দলের হয়ে দুইবার বিশ্বকাপ ও একবার রার্নাস আপ ট্রফি জিতেন। তিনি তিন বিশ্বকাপে ১৫ টি গোলও করেন। রোনালদো তার ক্ষ্রীপ্য গতি দিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের হারিয়ে দিতেন এবং শক্তিশালী শটে সহজেই গোল আদায় করে নিতেন। রোনালদো ২০০২ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে জোড়া গোল করেন এবং একাই বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল জিতে নেন। সেলেকাও দের হয়ে ৯৮ ম্যাচে ৬২ গোল করেন এবং ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বসময়ের ২য় গোলদাতাও তিনি৷ ১৯৯৬ সালে পিএসভি ইন্দোভেন থেকে ক্লাব বার্সেলোনাতে নাম লেখান এবং অসাধারণ এক মৌসুম কাটান। তিনি ইন্টার মিলানেও পাঁচটি মৌসুম কাটান কিন্তু সেখানে ইনজুরির সাথে তাকে লড়াই করতে হয়। ২০০২ সালে তিনি রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন এবং মাদ্রিদে পাচটি সফল মৌসুম কাটান। তিনি রিয়ালের হয়ে ১৭৭ ম্যাচে ১০৪টি গোল করেন এবং তাদের হয়ে দুটি লা লিগা জেতেন৷ সব মিলিয়ে ক্লাব ফুটবলে ৫১৮ টি ম্যাচে ৩৫২ টি গোল করেন

পেলে: দুইটি বিশ্বকাপ বলতে গেলে একাই জেতান আর সর্বোপরি বিশ্বের একমাত্র খেলোয়াড় হিসাবে তিনটি বিশ্বকাপ জেতেন। তিনি ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোস এফসি তে ১৮ বছরের এক অসাধারণ ক্যারিয়ার কাটান। পেলে তার ভালোবাসার ক্লাব সান্তোসের হয়ে ছয়শোর মতো গোল করেন। তিনি ব্রাজিলের হয়ে ৯২টি ম্যাচে ৭৭ টি গোল করেন যার ১২ টি গোলই বিশ্বকাপ ম্যাচে। শুরুর দিকে,১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলে ছয়টি গোল করে ফুটবল বিশ্বের তারকা হয়ে ওঠেন। যদিও ইনজুরির কারণে ১৯৯৬ বিশ্বকাপের শেষের দিকে কয়েকটি ম্যাচে তিনি মাঠে নামতে পারেন নি। তিনি আবারো ১৯৭০ এ ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেন৷

নেইমার: এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৫২০টি প্রিতযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নেমেছেন নেইমার। গোল করেছেন ৩২১টি। সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন ১৭১টি। আর ৪৯২টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *