নারী এসআই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করলেন স্বামী এসআই ও অন্য নারী এসআইয়ের বিরুদ্ধে

অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণের পর এডিট করে প্রচার ও নি’র্যাত’নের অভিযোগে রাজশাহীতে স্বামীসহ পুলিশের দুই উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা। বুধবার (০৯ জুন) রাজশাহীর

সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করা হয়। মামলার বাদী এসআই (৩৫) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) রাজশাহী মহানগর শাখায় কর্মরত। মামলার আসামিরা হলেন- বাদীর স্বামী পুলিশের এসআই

ওবাইদুল কবির ওরফে সুমন (৩৫) ও নারী এসআই পলি আক্তার (৩০)। এসআই ওবাইদুল কবির ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বো’ম্ব ডিসপোজাল ইউনিটে কর্মরত। এসআই পলি আছেন ঢাকার নবাবগঞ্জ থানায়। ডিজিটাল

নিরাপত্তা আইন-২০১৮-এর ২৩/২৪/২৫/২৬/২৯/৩১/৩৫ ধারায় মামলাটি করা হয়। সাইবার ট্রাইব্যুনালে বাদীর পক্ষে রাজশাহী জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মোখলেসুর রহমান স্বপন মামলার নথিপত্র উপস্থাপন করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওবাইদুল কবির

মা’দকাসক্ত ও প’রকীয়া প্রেমে লিপ্ত। ভুক্তভোগী এসআই তার স্ত্রী। বিয়ের পর থেকে যৌ’তুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মা’নসিক নি’র্যা’তন চালাতেন ওবাইদুল। স্বামীর নি”র্যা”তনের কারণে এসআই ঢাকা থেকে রাজশাহীতে যোগদান করেন।

রাজশাহীতে আসার পর ওবাইদুল কবির ইউটিউব, ফেসবুক-মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীর ভুয়া অ’শ্লীল ছবি, ভিডিও প্রকাশ ও প্রচার করতে থাকেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হেয়প্রতিপন্ন করে প্রচারণা চালান। ভুক্তভোগীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টও আসামি ব্যবহার করছেন। এখান থেকেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালান।

ভুক্তভোগী নারী এসআই জানান, তার স্বামী এসআই ওবাইদুল কবির মা’দকাসক্ত ও প’রকীয়ায় জড়িত। বিয়ের প্রথম থেকে যৌতুকের জন্য চাপ দেন। শারীরিক ও মা’নসিকভাবেও নি”র্যাতন করেন। তার অন্যায় আমি মেনে নিইনি। এ বিষয়ে মামলা করেছি। রাজশাহী আসার পর রাজপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলাম।

তিনি আরও জানান, এসআই ওবাইদুল কবির তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ভিডিও ধারণ করে রেখেছিলেন। ভিডিওতে নিজের মুখ এডিট করে অন্য পুরুষের মুখ বসিয়ে ইউটিউবসহ সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করছেন। তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে এ মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আ’সামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে আসামি ওবাইদুল কবির ওরফে সুমনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার অধীনস্থ রফিক নামের এক ব্যক্তি ফোন ধরেন। তিনি বলেন, স্যার ব্যস্ত আছেন। কিছুক্ষণ পর ফোন দেন। পরবর্তী সময়ে ফোন দিলেও ধরেননি।

আইনজীবী মোখলেসুর রহমান স্বপন বলেন, রাজশাহীর সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান মামলার আবেদন গ্রহণ করেছেন। তিনি আগামী ৭ জুলাইয়ের মধ্যে পুলিশি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার ওসি নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আর্জির বরাত দিয়ে আইনজীবী জানান, ২০১৬ সালে এসআই ওবাইদুলের সঙ্গে নারী এসআইয়ের বিয়ে হয়। কিন্তু এসআই পলি আক্তারের সঙ্গে প’রকীয়ায় জড়ান এসআই ওবাইদুল। তাই তিনি নিজের স্ত্রীকে চাকরি ছাড়ার জন্য চাপ দেন। বাধ্য হয়ে ওই নারী এসআই ঢাকা থেকে বদলি হয়ে রাজশাহী চলে আসেন।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, সাইবার ট্রাইব্যুনাল থেকে এখনও কোনও নথিপত্র পাইনি। তাই মামলার বিষয়ে জানি না। নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।