‘গুম’ হওয়া রুবেল- ১৩ বছর পর যেভাবে জীবিত ফিরলেন‘

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ থেকে: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীর টেকের কুড়েরপাড় এলাকার ১৩ বছর আগে ‘গুম’ হওয়া রুবেল ওরফে আল আমিন (২১) জী’বিত ফিরে এসেছে। তাকে গুম করা হয়েছে এই অভিযোগে দুইজন মুক্তিযোদ্ধাসহ ১৯ জনকে

আসামি করে ২০০৭ সালে মামলা করা হয় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায়। মামলা নং-২৩। তারিখ-২৩(২)২০০৭। মামলায় ৬ থেকে ৭ আ’সামি জেলও খেটেছে। এর মধ্যে গত বুধবার রাতে রুবেল বাড়িতে আসে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে

মামলার আসামিরা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত ৯টায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে আসে। এদিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার দাবি করেছেন। রুবেল বলেন, মা রহিমা খাতুনের মারধর ও ক্ষুধার যন্ত্রণায়

বাড়ি থেকে বেরিয়ে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালে যায়। পরে নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশন থেকে ট্রেনযোগে কমলাপুর যায়। সেখানে দীর্ঘদিন মানুষের কাছে হাত পেতে খেয়ে বেঁচে ছিলাম। এরপর এক লোকের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর ওই লোক রামপুরা একটি হোটেলে কাজ নিয়ে দেয়।

এরপর বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কাজ করি। বর্তমানে মগবাজার মধুবাগ হাতিরঝিল সংলগ্ন মসজিদের পাশে ভাড়ায় বসবাস করে সেখানেই রং মিস্ত্রির কাজ করছি। আমি মগবাজারে রং মিস্ত্রি আল আমিন নামে পরিচিত। রুবেল আরও বলেন, বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ১০ বছর পর

মায়ের যোগাযোগ হয়। কুঁড়েরপাড় আসতে চাইলে মা বলে এলাকায় গেলে আমাকে মে’রে ফেলবে। গত ৬ বছর ধরে এলাকায় যেতে চাইলেও মা তাকে আসতে দেয়নি। এক পর্যায়ে তার মাকে না জানিয়েই বুধবার রাতে কুঁড়ের পাড় নিজ বাড়িতে ফিরে আসি।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার আ’সামিরা বিষয়টি জানতে পেরে রুবেলকে আটক করে। মামলার বাদী রহিমা খাতুন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পলাতক রয়েছেন। রুবেলের বাবার নাম জানু মিয়া।

এলাকাবাসী জানান,মামলার বাদী রহিমা খাতুন এলাকায় মা’মলাবাজ না’রী হিসেবে পরিচিত। মিথ্যা মামলা থেকে তার আত্মীয়-স্বজনকেও ছাড় দেয়নি। মিথ্যা মামলা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সদর মডেল থানার ওসি শাহ জামান জানান, ১৩ বছর পর ফিরে আসা রুবেলকে বৃহস্পতিবার রাতে এলাকাবাসী থানায় নিয়ে আসে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর আইনের বিধান অনুযায়ী বাদীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিউজ ক্রেডিট দৈনিক ইত্তেফাক