ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের নামে সাধারণ মানুষের সাথে হচ্ছে ভয়ংকর প্রতারণা, নিজে সচেতন হোন এবং অন্যকে সচেতন করুন। (ভিডিওসহ)

বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। আর এ আধুনিক যুগের আধুনিকতার সাথে পাল্লা দিয়ে সব কিছুতেই আসছে পরিবর্তন। দিনদিন সৃষ্টি হচ্ছে মানুষের নতুন নতুন কর্মসংস্থান।

তবে, আধুনিক সময়ে সেই কর্মসংস্থানের একটি হলো ডিজিটাল মার্কেটিং। এ ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের নামে নানা ধরনের ভয়ংকর সব প্রতারণা হচ্ছে অনলাইন মাধ্যমে। সময়ের সঙ্গে বাড়ছে প্রতারকের সংখ্যা।

সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল ফোনে ওতপেতে থাকা প্রতারকরা নানা কৌশলে অর্থকড়ি হাতিয়ে নিয়ে নিঃস্ব করছে সাধারণ মানুষকে। সম্প্রতি এমন এক প্রতারণার ঘটনা ঘটছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায়।

এখানে একটি দোকানে লটারীর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রোডাক্টের কথা বলে মানুষের কাছ অনেক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকচক্র। ১৫০ টাকার লটারী দিয়ে দূর-দূরান্তের মানুষকে বোকা বানাচ্ছে তারা। কৌশলে সাধারণ মানুষদেরকে বলছে আপনারা এই লটারী কিনুন,

এটা ঘষে ৬৫০০/ টাকার উপহার জিতে নিন। যদি আপনারা এ কার্ড ঘষে উপহার না পান তাহলে আপনাদের আরও ৩৫০/ যোগ করে মোট ৫০০/ টাকা ফিরত দেয়া হবে। এভাবেই মানুষের মাঝে তারা প্রতারণার ফাঁদ পাতছে। এখানে সোনিয়া, রাফিয়া, স্যামস্যাং মোবাইলসহ অনেক নিম্ন মানের জিনিস বিক্রি হচ্ছে।

তেমনি ২০১৮ সালের আরও একটি ভিডিওতে দেখা যায় যে, হাটহাজারী উপজেলায় ইয়াকুব ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে অনেক মালামাল জব্দ করা হয়। এখানে ১০-১২ জন লোক একটি বাসা ভাড়া নিয়ে দোকান করে এবং গ্রামে গিয়ে মাইকিং করে তাদের ব্যবসার ফাঁদে মানুষকে ফেলে। এতে কমপক্ষে ৮০ জন লোক প্রতারণার স্বীকার হন।

অনেকে সামাজিক অবস্থানের কথা চিন্তা করে চেপে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা রুহুল আমিন বলছেন, এরা ২০-২৫ দিন ধরে এ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে যে, নানা কায়দায় এরা প্রতারণার ফাঁদ পাতে।

সাধারণত সহজসরল মানুষই তাদের লক্ষ্য। সুযোগ বুঝেই নানা ছলচাতুরী ও মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তারা প্রতারণা করছে। এসব প্রতারণার মধ্যে কম দামে ভালো জিনিস , পণ্য না পেলে আরও কিছু টাকাসহ ফেরত ইত্যাদি বিচিত্র ও অভিনব কৌশলে প্রতারণা করে এরা। এদের দলের কয়েকজনকে আটক করে সাজা প্রদানসহ টাকা জরিমানা করা হয়।

এসব প্রতারণার দায়ভার স্বীকার করে তারা ক্রেতাদের টাকা ফেরত দিতে রাজি হয়। আর ভবিষ্যৎ এ এমন কাজ করবে না বলে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেছেন, এদের খপ্পর থেকে দূরে থাকার একমাত্র মাধ্যম সচেতনতা। আমরা সকলে সচেতন হই যাতে করে এইসব প্রতারকদের খপ্পর থেকে মুক্ত থাকতে পারি। এজন্য সচেতনতার বিকল্প কিছু নেই। সবাই সজাগ থাকি।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *